আকাশবার্তা ডেস্ক :
মালা (১০) নামের এক শিশু গৃহকর্মীর হাত-মুখ বেঁধে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কুতুবখালীতে বসবাসরত দিলারা নামে এক গৃহকত্রীর বিরুদ্ধে। দিলারা ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের নার্স।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এখন তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলার হাজিরা গ্রামের জেলে রমিজ মিয়া ও গৃহিণী কল্পনা আক্তারের মেয়ে মালা। দুই হাজার টাকা বেতনে গত ২ বছর আগে তাদেরই এলাকার রাজিবের ঢাকার যাত্রাবাড়ী কুতুবখালী বড় মাদ্রাসা ডাক্তার বাড়ির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে দেয়। এরপর থেকেই ওই বাসায় কাজ করে আসছিল মালা।
হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের তৃতীয় তলার শিশু বিভাগে ভর্তি মালা জানায়, দিলারার ছোটছোট দুইটি ছেলে রয়েছে। তাদেরই দেখাশোনা করতো সে। আর গৃহকর্তা রাজিব মাছের আড়তে ব্যবসা করেন। এর আগেও কোনো ছোটখাটো ভুল হলেই বিভিন্ন সময় নার্স দিলারা তাকে মারধর করতো। চড় থাপ্পড় এমনকি লাঠি দিয়েও পেটাতো। ১০/১২ দিন আগে দিলারার বাবা দুইটি দেশি মুরগি এনে দিয়ে যায় তাদের বাসায়।
এরপর একটি মুরগি তারা রান্না করে খেয়ে ফেলে আর একটি বাসার বারান্দায় ঝাঁপির ভিতরে আটকে রাখে। এরপর কোনো এক সময় মুরগিটি হারিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও মুরগিটা পাওয়া যায়নি।
মালা জানায়, কেউ একজন নার্স দিলারাকে বলে সে মুরগিটি ছেড়ে দিয়েছে। এই কথার ভিত্তিতে গত ১০ জানুয়ারি রাতে যখন রাজিব বাসার বাইরে, বাচ্চারা রুমে টিভি দেখছে তখন পাশের আরেকটি রুমে নিয়ে যায় মালাকে।
এরপর রশি দিয়ে তার দুই হাত পিছনে নিয়ে শক্ত করে বাঁধে, আর হাসপাতালে রোগীদের জন্য ব্যবহৃত মাইক্রোপোন (স্কস্টেপ) দিয়ে তার মুখ আটকে দেয়, যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। এরপর রান্না ঘর থেকে রুটি ভাজার খুন্তি গরম করে এনে তার পশ্চাদাংশে ও পায়ের সামনের রানে ছ্যাকা দেয়। এতেও ক্ষান্ত হননি দিলারা। দগ্ধ ঘায়ে ঘঁষে দেয় মরিচ।
শিশুটি জানায়, দিলার এই ঘটনার কথা কাউকে জানাতে নিষেধ করেন মালাকে; এমনকি গৃহকর্তা রাজিবকেও বলতে নিষেধ করেন। কাউকে বললে তাকে আরো নির্যাতন করা হবে বলে হুমকি দেয়। কিন্তু তাকে কোনো ধরণের চিকিৎসা না দিয়ে কাজ করানো অব্যাহত রাখেন দিলারা। সবশেষ গতকাল শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বাসা থেকে পালায় মালা।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিশুটির খালা সুমা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করার পর গৃহকর্তা রাজিবকে গ্রেপ্তারর করা হয়েছে। তবে গৃহকর্ত্রী দিলারাকে এখনও ধরার সম্ভব হয়নি। তাকে ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।