ইমরান হোসেন :
‘সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের মান্দারীতে দলীয় ভুল বুঝাবুঝির কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৬ জন নিহতের পর বেঁচে আছেন একমাত্র সিরাজ’ এ লেখাগুলো সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও স্টিকার সাঁটানো দেখা যায় চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকাসহ জেলার বিভিন্নস্থানে। ব্যানারে আরো দেখা যায়, সিরাজুল ইসলাম বর্তমানে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আ.লীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন এবং আসন্ন চন্দ্রগঞ্জ থানা আ.লীগের সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। ব্যানারের এ লেখাগুলো পথচারীদের চোখে পড়ে রাস্তার পাশে চলাচলের সময়। সবার প্রশ্ন, দলীয় ভুল বুঝাবুঝিতে আবার সড়ক দুর্ঘটনা হয় কীভাবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে কথা হয় আ.লীগ নেতা সিরাজের সাথে। তিনি বলেন, বছরখানেক আগে দেওয়ান শাহ মেলায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে সেখানে হাতাহাতি হয়। হাতাহাতিতে আমার ভাগিনা অন্তর আহত হয়। আহতাবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে পরদিন সকালে আমার বোন, বোনের স্বামী, আমার মা’সহ পরিবারের আরো ৩ জন অন্তরকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার পথে মান্দারীতে মালবাহী ট্রাক এবং সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তারা সবাই মারা যায়।
ব্যানারে এসব কিছু লেখার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ১০ বছর যাবত ইউনিয়ন আ.লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলাম, বর্তমানে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে আছি। আমি কোন মামলা করিনি মূলত দলকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু দলের কাছে আমার একটা চাওয়া পাওয়া আছে। এ কারণেই লেখাগুলো এভাবে লেখা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন সচিবের সাথে কথা বলেই আমি এগুলো লিখেছি।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি নুরুল আমিন জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য আমরা জানি সারাদেশে ছোট খাটো কোন না কোন ঘটনা ঘটে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনা চলমান। দলীয় পদ পাওয়ার জন্যই মূলত সিরাজের এমন ব্যানার ফেস্টুন।
ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী সোলাইমান জানান, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আ.লীগের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। আমরা জানি সড়ক দুর্ঘটনায় গতবছর ৬ জন মানুষ মারা গেছে। দলীয় কারণে কোন সড়ক দুর্ঘটনার ব্যাপারে আমার জানা নেই।
লক্ষ্মীপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এম ছাবির আহম্মেদ বলেন, যে এ কথাগুলো লিখেছে সে একটা উন্মাদ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কোন সড়ক দুর্ঘটনা হতে পারে না।
সদর উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, এটাতো সাধারণ জ্ঞানের কথা। রাজনীতির সাথে সড়ক দুর্ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই। দলীয় সম্মান ক্ষুন্ন করে সিরাজ যে ব্যানার ফেস্টুন দিয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা আ.লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন বলেন, দলীয় ভুল বুঝাবুঝিতে সড়ক দুর্ঘটনা কখনোই হতে পারে না। আমি যতটুকু জানি চালকের অদক্ষতা এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করার কারণেই সেদিন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।