শুক্রবার ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ

আইসিজে’র অন্তবর্তী আদেশে খুশি রোহিঙ্গারা

আকাশবার্তা ডেস্ক :

রোহিঙ্গা গণহত্যার ওপর গাম্বিয়ার করা মামলায় মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করে দিয়েছে হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। অন্তবর্তী আদেশে আলোচিত এই মামলাটি চালানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছে এ আদালত।

এই অন্তবর্তী আদেশের খবরে কক্সবাজারের উখিয়া- টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে খুশির বন্যা দেখা গেছে।

তাদের দাবি চলমান গণহত্যার মামলায় পুরাপুরি মিয়ানমার দোষী সাব্যস্ত ও আন্তজার্তিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হলে রোহিঙ্গারা ন্যায্য অধিকার ফিরে পেয়ে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত ও স্বদেশে ফিরে যেতে পারবে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবি করা হয়।

রোহিঙ্গা ২৫ ক্যাম্পের মাঝি রহিম উল্লাহ বলেন, এই অন্তবর্তী মামলার আদেশ তাদের জন্য বড় পাওয়া, তাদের শুধু গণহত্যার বিচার নয়, তাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার ফিরে পেলে তারা বাংলাদেশ থেকে নিজ দেশে ফিরতে পারবে।

রোহিঙ্গা নেতা মো. জাবেদ এই মামলার দিকে জাতিসংঘ ও ওআইসির নজর দেওয়ার দাবি জানান, অন্তবর্তীকালীন আদেশকে প্রাথমিক ধাপে মিয়ানমারের মুখোশ উম্মোচিত হয় বলে দাবি করেন।

রোহিঙ্গা মাঝি আবু তালেব বলেন, মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে এদেশে আশ্রয় দিয়েছে। এতগুলো মানুষ অন্য দেশে এভাবে থাকা সম্ভব নয়। যদি সুষ্ঠু বিচার পাই তবে স্বইচ্ছাই মিয়ানমারে ফিরে যাবো।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৭ এর এক নেতা কামাল হোসেন বলেন, মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি সুষ্ঠু বিচারের আশায়, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ সরাসরি গুলি করেও রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা করেছে রাখাইন সেনারা। ন্যায়বিচারে মিয়ানমারের মিথ্যাবাদী সুচি’র শাস্তি দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় ৩টায় আইসিজের বিচারপতি ইউসুফ রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় পাঠ শুরু করেন।

আদালত বলেছেন, গাম্বিয়া স্বনামে এই আবেদন করেছে। এরপর তারা ওআইসিসহ যেকোনো সংস্থা ও দেশের সহযোগিতা চাইতে পারে। তাতে মামলা করার অধিকার ক্ষুন্ন হয় না। মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চলছে এমন অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া।

আবুবকর তামবাদু শুনানিতে নৃশংসতার জন্য দায়ী সেনা সদস্যদের বিচার ও সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর ‘আস্থা রাখা যায় না’ মন্তব্য করে মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানির আগ পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়েছিলেন।

অন্যদিকে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে সু চি দাবি করেন, রাখাইনের পরিস্থিতি সম্পর্কে গাম্বিয়া যে চিত্র আদালতে উপস্থাপন করেছে তা ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’।

উল্লেখ্য-২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে ৭৫ হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ১০ হাজার ৫৬৫ জন নারী-পুুরুষকে মেরে ফেলা হয়েছে। ১৮শ’ ৩৩ জনকে ধর্ষণ করেছে। ৯০৬টি মসজিদ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

১২০০ মক্তব-মাদ্রাসা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ২৫০০ লোককে বিনাদোষে জেলে পাঠিয়েছে। ৮৮টি গণকবর রয়েছে। এর মধ্যে ২টিতে ১০ জন করে মৃতদেহ পাওয়া গেছে। একটি মংডুর আংডং গ্রামে অপরটি বুচিডংয়ের গুদামপাড়ায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে গাম্বিয়া মামলা দায়ের করেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০