আইন আদালত ডেস্ক :
গর্ভবতী নারী ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেটের শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা ও লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ রিট দায়ের করেন।
এ মাসেই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিট আববেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
এ বিষয়ে আইনজীবী ইশরাত হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, বালাদেশে এখনও বেশির ভাগ মানুষের ছেলে সন্তানই কাম্য। মেয়ে সন্তান নিতে চান না।
কারণ তারা মনে করেন, ছেলেরা বংশের ধারক, তারা আয় করে, বেশি শক্তিশালি। মেয়েরা তা থেকে পিছিয়ে।
এমন কি অনেক নারীও মনে করে ছেলে সন্তান তাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা দেবে, যা একজন মেয়ে সন্তানের পক্ষ অসম্ভব।
এ অবস্থায় যদি পরীক্ষার মাধ্যমে পেটে থাকা সন্তানের লিংগ পরিচয় জানা যায় এবং তা মা-বাবার কাঙ্খিত না হলে গর্ভবতী মায়ের শারিরীক ও মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে।
মা যদি হতাশায় ভোগে তবে বাচ্চার brain development গঠন /বিকাশ ঠিকভাবে হয় না।
চীন-ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেটে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তাই বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেটের শিশুদের লিংগ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ হওয়া জরুরী।
তিনি বলেন, গর্ভবতী মা ও শিশুর কল্যাণের জন্য,বা অনাগত সন্তানের সুস্থতা জানতে তারা যেকোন পরীক্ষা করতেই পারেন।
কিন্তু শুধু পেটে থাকা সন্তান ছেলে না মেয়ে তা জানার উদ্দেশ্যে ডাক্তারি পরীক্ষা বা ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে লিংগ পরিচয় প্রকাশ কোন ভাবেই কাম্য নয়।
নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে গত ১ ডিসেম্বর গর্ভবতী নারী ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেটের শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা ও লিংগ পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান স্বাস্থ্য সচিব,নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সমাজ কল্যাণ সচিবকে এ নোটিশ পাঠান।