আকাশবার্তা ডেস্ক :
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) আঙুলের ছাপ মেলেনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর। পরে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে ভোট দিয়েছেন সিইসি আর নিজ ক্ষমতাবলে জাফরুল্লাহর ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেন দায়িত্বরত নির্বাচনী কর্মকর্তা।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা ৫মিনিটে রাজধানীর উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের কলেজ ভবনের ৮ নম্বর কক্ষে ভোট দেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা।
জানা গেছে, সিইসি কে এম নূরুল হুদা ভোট দিতে গেলে তার আঙুল স্ক্যান করা হয়। কিন্তু মেশিনে তার আঙুলের ছাপ মেলেনি। পরে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে তিনি ভোট দেন।
এদিকে দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কাকলি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিতে গিয়ে একই অভিজ্ঞতার শিকার হন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। পরে দায়িত্বরত নির্বাচনী কর্মকর্তা নিজ ক্ষমতাবলে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
ইভিএমে ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের এ নেতা বলেন, ইভিএম আমাকে আইডেন্টিফাই (চিহ্নিত) করতে পারলো না। আমার যখন আঙুলের ছাপ মিললো না, তখন আমার ভোট আরেকজন দিয়ে দিতে পারে। আমার নাম যে শিটে ছিল, সেখানে আরও ২৮ জনের নাম ছিল। আমিসহ ওই শিটের ৪ জন ভোট দিয়েছে। আমার আঙুলের ছাপ না মেলায় নির্বাচনী কর্মকর্তারা আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য ইভিএম অন করে দিল। সুতরাং যারা ভোট দিতে আসবে না তাদের ভোটতো অন্য কেউ দিয়ে দিতে পারে। ইভিএম মেশিনের আরও আধুনিকায়ন করা দরকার।
তবে এর আগে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সিইসি বলেন, ৮-৯ বছর আগে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়েছি। ঘামে ভেজা থাকায় হয়তো মেলেনি। এনআইডি দিয়ে ভোট দিয়েছি।
তিনি বলেন, এই সমস্যা অনেকেরই হতে পারে। তবে সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা আছে। বিকল্প ব্যবস্থায় ভোট দেয়া যাবে। কেউ ভোট না দিয়ে যাবেন না।
সিইসি জানান, ইভিএমে ভোট দেওয়ার তিন-চারটি উপায় আছে। আইডি কার্ড দেখতে পারে, পুরোনো কার্ড দেখাতে পারে। নম্বর মেলালে ছবি আসবে, ভোট দিতে পারবে।
ভোটদান শেষে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাকে ভোট দিতে কেউ বাধা দেয়নি। তবে ভোটকেন্দ্রে একটি নির্দিষ্ট দলের এজেন্ট ছাড়া আর কারো এজেন্ট নেই। আমি কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের জিজ্ঞাসা করি, অন্যদের পোলিং এজেন্ট কই? তারা আমাকে বলে, একটু আগেই ছিল, হয়তো আশেপাশে আছে। এছাড়া কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতিও অনেক কম বলে জানান জাফরুল্লাহ।
এদিকে সকাল ১০টায় রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি ভোট দিয়ে বের হন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ইভিএম নিয়ে তার অসন্তোষের কথা জানান।
ড. কামাল বলেন হোসেন বলেন, ‘আমার ভোটার নম্বর বের করতে আধা ঘণ্টা সময় লেগেছে। ভোট দিতে লেগেছে ১০ মিনিট। এটা একটি জটিল প্রক্রিয়া। অন্য ভোটাররা ধৈর্য ধরে ভোট দিতে পারবে কি না সেটাই দেখার বিষয়।’
প্রসঙ্গত, এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবচেয়ে বড় পরিসরে ইভিএম মেশিনে ভোট নেওয়া হচ্ছে।