
আকাশবার্তা ডেস্ক :
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিজ বাসায় এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন খুন ও খুলনায় আওয়ামী লীগ নেতা হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাকে ‘নতুন অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। রোববার (১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে কোনো এমপি-মন্ত্রী এ ধরনের হামলার শিকার হননি। তাছাড়া বিদেশী গোয়েন্দারাও সম্প্রতি সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে পারেন বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সুন্দরগঞ্জ ও খুলনার ঘটনা দুটি নতুন কৌশল হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদকে (ডন) লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহকারী ইলেকট্রিক বাবুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর সুন্দরগঞ্জে এমপি লিটন খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তিনি বলেন, এই ঘটনাকে আমরা নৃশংস হত্যার নতুন অধ্যায় বলে মনে করছি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, দলীয় কোন্দল, জামায়াত, জঙ্গিসহ বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সুন্দরগঞ্জের ঘটনার তদন্ত চলছে।
প্রায় একই সময়ে সরকার দলীয় দুই নেতার ওপর হামলার ঘটনা কাকতালীয় নাকি পরিকল্পিত- এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা নতুন কৌশল হতে পারে। সবকিছুকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজ করছি।
সম্প্রতি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলেছে, সরকারদলীয় এমপি-মন্ত্রীরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারেন। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এখন অনেক দেশেই এমন ঘটনা ঘটছে। সব কিছু বিবেচনায় নিয়েই আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বছরের শেষ দিন শনিবার বাসায় ঢুকে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।