শুক্রবার ১৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের মেয়র নাছির বাদ পড়ার মূল কারণ

আকাশবার্তা ডেস্ক :

চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে গেলেন যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী। মনোনয়ন দৌড়ে যিনি ছিলেন একেবারে পেছনের দিকে।

এদিকে নগরীর শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থতার পাশাপাশি যথাযথ উন্নয়ন করতে না পারাই কাল হলো আ জ ম নাছিরের জন্য। সেই সঙ্গে ছিলো প্রতিপক্ষকে আস্থায় আনতে না পারার কারণে সৃষ্ট মারাত্মক অভ্যন্তরীণ বিরোধ। আর তাই চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থিতা থেকে শেষ মুহূর্তে ছিটকে পড়তে হলো তাকে। এমনটিই মনে করছেন চট্টগ্রাম মহানগরীর দলীয় নেতাকর্মীরা।

তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের বাদ পড়া নিয়ে দলীয় নেতাদের চুলচেরা বিশ্লেষণ এখন চলছে। বিশেষ করে মেয়র হওয়ার পর বক্তব্যে উন্নয়ন কাজের জন্য ৫ শতাংশ হারে কমিশন দিতে হয় উল্লেখ করে আমলাদের খেপিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। যে কারণে নগরীর যথাযথ উন্নয়ন হয়নি বলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল বলেন, সবার অতীত কার্যক্রম বিবেচনায় এনে দলের শীর্ষ নেতারা মনে করেছেন এই মুহূর্তে রেজাউল করিম চৌধুরী সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী। উনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সক্রিয় নেতা হিসাবেই রাজনীতিতে আছেন রেজাউল করিম।

আমি মনে করি একজন রাজনৈতিক নেতাকেই মূল্যায়ন করা হয়েছে। এটা যদি আমরা এভাবে নেই, নানা বক্তৃতায় নেত্রী সবাইকে সাবধান করছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেত্রী যখন সোচ্চার, দলীয় কর্মীদের শাসন করছেন, তখন রেজাউল করিমের মনোনয়ন পাওয়াটা যারা নিবেদিত প্রাণ কর্মী তাদের জন্য সুখবর।

নগর আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, আ জ ম নাছির একবার বলেছিলেন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর উন্নয়ন কাজ করতে ৫ শতাংশ হারে কমিশন দিতে হয়। এজন্য অনেকেই তার বিরুদ্ধে খেপেছেন। যে কারণে ২/৩ বছর তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি নগরীতে। কারণ এ সময় উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ আসেনি। আর বরাদ্দ না পেলে উন্নয়ন হবে কীভাবে। নগরীতে যে রকম উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিলো সে রকম উন্নয়ন হয়নি।

নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মহিউদ্দিন-নাছিরের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার ছেলে রাজনীতিতে আসেন। কিন্তু নওফেল বাবার অনুসারীদের নিয়ে বিরোধে না গেলেও সেই বিরোধ মেটাতে ব্যর্থ হন আ জ ম নাছির।

কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর বলেন, নগর আওয়ামী লীগের বিরোধ মেটাতে নাছির ভাই কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি উন্নয়ন কাজেরও কোনো সমন্বয় ছিলো না।

এদিকে মেয়র পদে নাছিরের বাদ পড়া এবং একেবারে নতুন হিসাবে রেজাউল করিমের মনোনয়নে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

২০১৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সবশেষ নির্বাচনে প্রায় ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির এম মঞ্জুর আলমকে হারান আওয়ামী লীগের আ জ ম নাছির।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১