আকাশবার্তা ডেস্ক :
অপরাধ জগতের সম্রাজ্ঞী শামীমা নূর পাপিয়া। এবার তার সম্পর্কে ভয়ঙ্কর তথ্য দিলেন সহযোগী তায়্যিবা। রিমান্ডে তিনি জানিয়েছেন, অভিজাত ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনের জন্য অনেক সময় চাহিদামতো থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, ভুটান ও রাশিয়া থেকে মেয়েদের নিয়ে আসা হতো। পার্বত্য অঞ্চল থেকেও পাহাড়ি মেয়েদের নিয়ে আসতেন পাপিয়া।
রিমান্ডে পাপিয়া-সুমনের সহযোগী তায়্যিবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে শামিমা নূর পাপিয়া ওয়েস্টিন হোটেলে অবস্থানকালে কারা কারা তার কাছে যেতেন, তাদের নাম হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, হোটেলে অবস্থানের সময় পাপিয়া কার কার সাথে দেখা করেছেন বা তার কাছে কারা কারা আসতেন, সে ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিসি ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সাথে এই হোটেলে তিনি কীভাবে বিল দিতেন, তার ক্যাশ মেমোও চাওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তদন্তের স্বার্থে যেসব তথ্যের প্রয়োজন তা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব ব্যাপারে পুরো তথ্য সংগ্রহ করে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।
এদিকে রাজনীতিতে শামীমা নূর পাপিয়ার উত্থান এবং তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার পেছনে নরসিংদী ও ঢাকার বর্তমান ও সাবেক তিন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। তাদের মধ্যে ঢাকার সাবেক এক এমপি’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন পাপিয়া।
এছাড়াও একসময় এমপি হতে চেয়েছিলেন অপরাধ জগতের সম্রাজ্ঞী শামীমা নূর পাপিয়া। এজন্য কোটি কোটি টাকা খরচও করেছিলেন তিনি। এমনকি দলীয় পদ বাগাতেও ঢেলেছিলেন কাড়ি কাড়ি টাকা। আর এই টাকার পুরোটাই আয় করেছিলেন অবৈধ উপায়ে। যাদের পেছনে টাকা ব্যয় করেছিলেন তারাই আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে অপরাধ জগতের মাফিয়া বানিয়েছে পাপিয়া-সুমন দম্পতিকে।
ফলে ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন সুমন-পাপিয়া। বড় বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষকে নানাভাবে ব্লাকমেইল করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছিলেন। এমনকি অনেককে আটকে রেখে শারীরিক নিপীড়নও চালাতেন তাদের ওপর।
পুলিশি রিমান্ডে যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিস্কৃত নেত্রী পাপিয়া এসব নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এছাড়া তার ওপরওয়ালা, সহযোগী, যেখানে যেখানে আনাগোনা সেসবের বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। বর্তমানে তিন মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন আলোচিত এই নারী।
নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এ জন্য তিনি খরচ করেছিলেন ১০ কোটি টাকা। আর নরসিংদী যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতেও তিন কোটি টাকা খরচ করেছিলেন।
সূত্র জানিয়েছে, ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী অনেক তথ্য দিচ্ছেন। তাদের কখনও আলাদাভাবে, কখনও দু’জনকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রোববার গোপনে দেশত্যাগের সময় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সেক্রেটারি শামিমা নূর পাপিয়াকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন- পাপিয়ার স্বামী ও তার অবৈধ আয়ের হিসাবরক্ষক মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা ও সাব্বির খন্দকার। এই নেত্রীর প্রকাশ্য আয়ের উৎস গাড়ি বিক্রি ও সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা। তবে এর আড়ালে জাল মুদ্রা সরবরাহ, বিদেশে অর্থপাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাপিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পরই বেরিয়ে আসতে শুরু করে তার অন্ধকার জগতের চাঞ্চল্যকর কাহিনী।
র্যাব জানায়, ২২ ফেব্রুয়ারি আটক করার সময় পাপিয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১২ সালের অক্টোবরে নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকায় নিজ বাসার সামনে তার স্বামীর ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি পাপিয়ার পেটে বিদ্ধ হয়। এরপর তারা নরসিংদী ছেড়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।
ঢাকায় যুব মহিলা লীগের নেত্রী ও সংরক্ষিত আসনের এক নারী সাংসদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা হয়। একপর্যায়ে ওই নারী সাংসদসহ যুব মহিলা লীগের শীর্ষস্থানীয় দুই নেত্রীর প্রশ্রয়ে এই দম্পতি অপরাধ চক্র গড়ে তোলেন।