আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রায় সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। দেশে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই অদৃশ্য ভাইরাসের কারণে সারাদেশে চলছে লকডাউন।
বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেন ছড়িয়ে না পড়ে- সেটি প্রতিরোধে ১৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়াচ্ছে সরকার।
গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে পরে এই ছুটি বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এরপর ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়।
চতুর্থ দফায় ২৫ এপ্রিল এবং পঞ্চম দফায় ৫ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। এবার পরিস্থিতি সাধারণ ছুটির মেয়াদ ১৫ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে ষষ্ঠ দফায় ছুটি বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ধীরে ধীরে কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দিচ্ছে সরকার। পোশাক কারাখানা, রেস্টুরেন্ট খুলার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই ঘুরাফেরা করছেন অনেকেই। এখনো সচেতন হননি নগরবাসী। নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন তারা।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতেই পর্যায়ক্রমে দেশের লকডাউন শিথিল করার ঘোষণা এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে।
এত দিন শহরের তেমন শোরগোল না থাকলেও পোশাক কারাখানা ও রেস্টুরেন্ট খুলার পর থেকেই ফিরে আসে পুরোনো চেহারায়।
সোমবার (৪মে) সরেজমিনে দেখা যায়- রাজাধানীর গুলিস্তান, পল্টন, শান্তিবাগ, রামপুরা ও বাড্ডা, মহাখালী, বনানী, উত্তরাসহ বিভিন্নস্থানে তীব্র যানজটের দৃশ্য।
গণপরিবহন না চললেও রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে চড়ে গন্তব্যে ছুটছেন মানুষ। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর অপেক্ষায় ভাড়ায় চালিত যানবাহনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
রাজধানীর অলিগলিতেও দেখা গেছে মিশ্র দৃশ্য। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত গাড়ির কারণে জটলা দেখা গেছে।
অথচ প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে নেই। প্রশাসন নজরদারিতে রাখতে পারছে না সাধারণ মানুষকে। গত কয়েকদিন আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গাড়িগুলোকে আটকিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঢুকতে দিয়েছে।
সোমবার জিজ্ঞাসাবাদ করলেও আগের মতো তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে নেই। কঠোর অবস্থানে নেই তারা।
এমন পরিস্থিতে অনেকের মনে প্রশ্ন তাহলে কি ধীরে ধীরে লকডাউন উঠে যাচ্ছে?
এই অবস্থায় লকডাউন শিথিল করা হলে ভয়ংকর বিপর্যের আশঙ্কা করছেন বিশেজ্ঞরা।
করোনাভাইরাসের আক্রান্ত সংখ্যা কমার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন তুলে নিয়েছেন।
বাংলাদেশেও সেই পথে হাটার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।