সোমবার ২রা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

চন্দ্রগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই খুন করা হয় শিশু রাহিমাকে, আদালতে পিতার স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পিতার হাতেই শ্বাসরোধে খুন হয় দেড়বছর বয়সী শিশুকন্যা ফারহানা আক্তার রাহিমা। সোমবার (১১ মে) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট রায়হান চৌধুরীর আদালতে ১৬৪ ধারায় খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সন্তান হত্যাকারী ঘাতক পিতা ফয়েজ আহাম্মদ মনু (৪৫)। ঘাতক মনু চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বরাজাপুর গ্রামের মৃত হোসেন চোরা ওরফে খোরশেদ আলমের পুত্র।

বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে ঘাতক ফয়েজ আহাম্মদ মনু খুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে জানায়, পাশের বাড়ির মতিনদের সাথে জমি পরিমাপ এবং বিদ্যুতের লাইন টানা নিয়ে তার সাথে পূর্ব থেকে বিরোধ চলছিল। তাদেরকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতেই নিজের শিশুকন্যাকে হত্যার একক পরিকল্পনা নেয় পিতা মনু। গত ৫ই মে তারিখ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বাড়িতে খেলাধূলা করছিল শিশু রাহিমা। এসময় সবার অজান্তে রাহিমাকে বাড়িতেই গলা টিপে হত্যার পর নিথর দেহটি কোলে তুলে বাড়ি থেকে একটু দূরে নির্জন ঝোঁপের কাছে নিয়ে সেখানেই লাশ লুকিয়ে রাখেন।

এরপর বাড়িতে এসে তার মেয়ে হারিয়ে গেছে বলে বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন সবাই। সারাদিন চলে যাওয়ার পর রাত ১০টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মেয়ে হারানোর সাধারণ ডায়রি করেন পিতা মনু নিজেই। এরপর পুলিশসহ বাড়ির আশপাশের বিভিন্নস্থানে শিশু রাহিমাকে খোঁজাখুজি করা হয়। কিন্তু তাকে আর পাওয়া যায়নি। ৮ মে শুক্রবার রাত ১২টার পরে শিশু রাহিমার লাশ ওই ঝোঁপের থেকে নিয়ে এসে নিজবাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেয় পিতা মনু নিজেই। পরদিন শনিবার সকাল ৭টায় চন্দ্রগঞ্জ থানায় ফোনে খবর দেয় তার মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে তার বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকিতে। এরপর পুলিশ এসে সেপটিক ট্যাংকি থেকে শিশু রাহিমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

হত্যাকান্ডের শিকার ভিকটিম শিশু রাহিমা।

এ ঘটনায় শিশু রাহিমার মা’ রাশেদা আক্তার সুমি বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৬/১০৫)।

সোমবার সন্ধ্যায় বিজ্ঞ আদালতে দেয়া খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা সাংবাদিকদের জানান, চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন। তিনি বলেন, জেলা পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান স্যারের দিকনির্দেশনায় শিশুকন্যা রাহিমা হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। তিনি আরো জানান, খুনের যাবতীয় পরিকল্পনা ও লাশ গুমের বর্ণনা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক পিতা ফয়েজ আহাম্মদ মনু। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উম্মোচিত হওয়া সন্তোষ প্রকাশ করেন ওসি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, হত্যার রহস্য উম্মোচনে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার আলামতসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ভিকটিম শিশুর মাকে বাদি করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর এবং শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার পিতার গতিবিধি আমাদের কাছে শুরু থেকে সন্দেহ হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের কৌশলী জেরার মুখে আদালতে হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয় শিশুটির পিতা ফয়েজ আহাম্মদ মনু। সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আরো উপস্থিত ছিলেন- এসআই আবু মুসাসহ অন্যান্যরা।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১