আকাশবার্তা ডেস্ক :
সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন করোনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণা করে দেশজুড়ে সমালোচিত হওয়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম।
তাকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে র্যাব জানিয়েছে, কিছুক্ষণ পর পর স্থান পরিবর্তন করছিলেন ধুরন্ধর সাহেদ। চেহারা পরিবর্তনের জন্য চুলে রঙ-ও করেছিলেন তিনি। কেটে ফেলেছিলেন গোঁফ।
সাহেদের পরিকল্পনা ছিল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার। এই কারণে সব কিছু ঠিকও করে রেখেছিলেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী নৌকায় করে নদী পার হয়ে ভারত চলে যাচ্ছিলেন সাহেদ। তখনই ঘটনাস্থালে উপস্থিত হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর বিশেষ টিম।
এদিকে র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকার মাঝি সাঁতরে পালিয়ে গেলেও পালাতে পারেননি সাহেদ। মূলত মোটা হওয়ায় দৌড়ে কিংবা সাঁতরে পালাতে পারেননি এই প্রতারক। এ সময় তার পরনে ছিল কালো রঙের বোরকা।
আটকের পর দেখা গেছে, সাহেদের গায়ের বিভিন্ন জায়গায় লেগে ছিল কাদা। কোমরে বাঁধা ছিল পিস্তল। র্যাবের সাতক্ষীরার কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-১) বজলুর রশীদ তার ব্যাপারে এমনটাই জানিয়েছেন।
রিজেন্ট হাসপাতালে র্যাবের অভিযানের পর গা ঢাকা দিয়েছিলেন সাহেদ। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোনও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দেননি। এরমধ্যে, করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান সাহেদের পিতা। সেখানেও বাবাকে দেখতে আসেননি তিনি।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সাহেদ নিজ থেকে আত্মসমর্পণ না করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। সেজন্য সবোর্চ্চ সচেষ্ট ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, সাহেদ দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষভাবে তৎপর আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ওইদিন রাতেই গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মাসুদ পারভেজকে। তারপর থেকে যেকোনো সময় সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে এমন গুঞ্জন জোরালো হতে থাকে। মূলত সাহেদকে গ্রেপ্তারে বিশেষ তৎপর ছিল র্যাবের ইন্টেলিজেন্স।
এদিকে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে গ্রেপ্তারের পর হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় আনা হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টায় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
প্রসঙ্গত, করোনা পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে গত ৮ জুলাই মামলা করে র্যাব। উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়।
এর আগে, গত ৬ জুলাই সোমবার র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রিজেন্ট হাসপাতালের দুটো শাখায় (উত্তরা ও মিরপুর) অভিযান চালায়। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে শাখা দুটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। ৭ জুলাই বিকেলে উত্তরায় রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র্যাব।