আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আইএস বধূ হতে সিরিয়া যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগম নিজের নাগরিকত্ব রক্ষা নিয়ে আদালতে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা লড়তে বৃটেনে ফিরতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) লন্ডনের কোর্ট অব আপিল বা আপিল আদালত এক রায়ে জানিয়েছে, শামীমা সুষ্ঠু শুনানি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কারণ, শরণার্থী শিবির থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, আপিল আদালতের এই রায়ের অর্থ হলো, শামীমাকে লন্ডনে আদালতে হাজির হওয়ার অনুমতি দেয়ার উপায় বের করতে হবে সরকারকে। যদিও সরকার বারবার বলে আসছে, তাকে সিরিয়া থেকে সরাতে কোনও সহযোগিতা করা হবে না।
শামীমার সলিসিটর ড্যানিয়েল ফারনার বলেন, নিজের ঘটনা তুলে ধরার কোনো নিরপেক্ষ সুযোগ পায়নি শামীমা। ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থাকে মোকাবিলায় ভীত নয় সে। কিন্তু তাকে নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ না দিয়ে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা কোনো ন্যায়বিচার নয়, এটি বিপরীত।
শামীমা দাবি করে আসছেন, সরকার কর্তৃক তার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তটি অবৈধ। কারণ, এর ফলে সে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, অন্য কোনো দেশের নাগরিক হলে কেবল কারও নাগরিকত্ব বাতিল করা যায়।
গত মাসে আপিল আদালতের শুনানিতে শামীমার আইনজীবী যুক্তি তুলে ধরে বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কার্যকরভাবে সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারছে না তার মক্কেল।
ফেব্রুয়ারি মাসে, একটি ট্রাইব্যুনাল শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে আখ্যায়িত করেছিল। কারণ, ওই সময় ‘বংশোদ্ভূতভাবে সে ছিল বাংলাদেশি নাগরিক’।
উল্লেখ্য, আইএস বধূ শামীমা বেগম। ২০১৫ সালে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে যোগ দিতে লন্ডন থেকে সিরিয়া যান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বৃটিশ তরুণী। ২০১৯ সালে সিরিয়ায় একটি শরণার্থী শিবিরে তার সন্ধান পাওয়া যায়।
সেসময় দেশে ফিরতে চাইলে তার নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করে নেয় বৃটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৯ বছর বয়সী শামীমা বেগম বলেন, তিনি সিরিয়ায় থাকার সময় ডাস্টবিনে মানুষের কাটা মাথা পড়ে থাকতে দেখেছেন- কিন্তু এসব তাকে বিচলিত করেনি।
শামীমা বেগম আরো বর্ণনা করেন, তার যে দুই বান্ধবী তার সাথে সিরিয়া গিয়েছিলেন তাদের একজন বোমা বিস্ফোরণে মারা গেছেন। তৃতীয় জনের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা অস্পষ্ট।
এটা ছিল স্বাভাবিক জীবনের মতোই
সিরিয়ায় যাবার জন্য লন্ডন ত্যাগের সময় বেথনাল গ্রিন একাডেমির ছাত্রী শামীমা বেগম ও আমিরা আবাসির বয়েস ছিল ১৫, আর খাদিজা সুলতানরা বয়েস ছিল ১৬। লন্ডনের কাছে গ্যাটউইক বিমান বন্দর থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তারা তিন জন তুরস্কের উদ্দেশ্যে উড়াল দেন।
তারা তাদের বাবা-মাকে বলেছিলেন, তারা একসাথে কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন। তুরস্কে নামার পর তারা সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ায় ঢোকেন। তখন সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে রয়েছে আইএস।
ইসলামিকে স্টেটের স্বঘোষিত খেলাফতের’ রাজধানী রাক্কায় এসে তারা প্রথম একটি বাড়িতে ওঠেন। সেখানে তাদের সাথে ছিল আরো কয়েকজন মেয়ে – যারা আইএস যোদ্ধদের বধূ হবার জন্য দেশ ছেড়ে এসেছিল।
শামীমা বলেন, আমি একটা আবেদনপত্র দেই যে আমি ইংরেজিভাষী একজন যোদ্ধাকে বিয়ে করতে চাই – যার বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর বয়েসের মধ্যে। দশ দিন পর তার সাথে ২৭ বছর বয়স্ক একজন ডাচ লোকের বিয়ে হয় – যে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল।
তার পর থেকে শামীমা ওই ব্যক্তির সাথেই ছিলেন, এবং দু’সপ্তাহ আগে তারা পূর্ব সিরিয়ায় আইএস গোষ্ঠীর শেষ ঘাঁটি বাঘুজ থেকে পালিয়ে যান। এসময় শামিমার স্বামী সিরিয়ান যোদ্ধাদের একটি দলের কাছে আত্মসমর্পণ করে।