আইন আদালত ডেস্ক :
কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে টেকনাফ মেজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া।
বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে মামলাটি দাখিল করেন তিনি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা থেকে সেখানে যান তিনি।
মামলায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর লিয়াকতকে প্রধান আসামি ও টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাসকে দ্বিতীয় আসামিসহ ৯ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট মো. মোস্তফার নেতৃত্বে এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দাখিলের পর আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত জানান অ্যাডভোকেট মো. মোস্তফা ও মামলার বাদী নিহত মেজর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া।
এদিকে, টেকনাফ থানাকে এই মামলার এজাহার গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহা। এছাড়া এজাহার নেয়ার পর সেটি আদালতকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে। র্যাব-১৫ এর অধিনায়ককে মামলার তদন্তভার দিয়েছেন আদালত।
গেলো ৩১ জুলাই রাত ৯টায় টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান।
ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়ে সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে।
তবে ঘটনার যে বিবরণ পুলিশ দিয়েছে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। রাশেদ আদৌ অস্ত্র তাক করেছিলেন কি না, তা নিয়ে যেমন সন্দেহ তৈরি হয়েছে, তেমনি পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নিতে দুই ঘণ্টা দেরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। যিনি সেদিন গুলি ছুড়েছিলেন, সেই পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ২০ পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদের মা’কে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।