আকাশবার্তা ডেস্ক :
ত্রিভুজ প্রেমের কারণেই রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুরে মামী রোজিনা আক্তার মিতুকে হত্যা করেছে তারই ভাগ্নে আহমেদ শরীফ শাকিল (২৭)। বুধবার (১৭ মে) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেনী।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল বাতেন বলেন, শাকিলের মামা সৌদি আরবে থাকেন গত বেশ কয়েক বছর থেকে। তিনি টাকা পাঠান দুই মেয়েকে লেখাপড়া করার জন্য। আর তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন ভাগিনা শাকিল। এরই মধ্যে শাকিলের সঙ্গে মামী মিতুর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। গভীর সম্পর্কের কারণে ভাগ্নের হাত খরচের টাকাও দিতেন মামী।
এভাবে বেশ ভালো সময় কাটছিল। হঠাৎ করে টাকার পরিমাণ কমানোর কারণে মামীর প্রতি সন্দেহ হয় শাকিলের। তখন শাকিল গোয়েন্দাগিরি শুরু করে। আর কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালেন কি না মামী। এরই এক পর্যায়ে এসে ১৭ এপ্রিল রাতভর মামীকে বেশ কয়েকবার ফোন করেন এবং ম্যাসেজ পাঠান।
কিন্তু কোনো উত্তর না পেয়ে পরের দিন ১৮ এপ্রিল ভোর ৬টার দিকে মামীর বাসার পেছনে এসে অবস্থান নেন। ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শাকিল বেশ কয়েকবার দরজায় নক করেছেন। কিন্তু তাতেও সাড়া শব্দ মেলেনি। এরপর তিনি আবারও বাসার পেছনে অবস্থান নিলে দেখতে পান, মামীর ফুফাত ভাই নজরুল বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।
ফুফাত ভাই নজরুলকে দেখে শাকিল ক্ষিপ্ত হয়ে যান। ওইদিন বেলা ১১টার দিকে কচুক্ষেত ওয়েস্টার্ণ বাজারে গিয়ে একটি চাকু কেনেন। চাকু কিনে রোজিনার বাসায় গিয়ে দরজা নক করেন। রোজিনার দুই মেয়ে পহেলা ও বাবুনি দরজা খুলে দিলে শাকিল ভেতরে প্রবেশ করে। রোজিনার দুই মেয়েকে একটি রুমে আটকে রাখে শাকিল। মামী বাথরুমে থাকায় শাকিল বাথরুমের দরজা প্রায় ১০ মিনিট ধরে নক করতে থাকেন। এক পর্যায়ে মামী বাথরুমের দরজা খুলে দিলে শাকিলও বাথরুমে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দেন।
শাকিল তার মামীকে বলেন, আমাকে বাদ দিয়ে নজরুলের সঙ্গে সারারাত কাটিয়ে দাও। আমাকে দিয়ে এখন আর চলে না। মামাকে সব বলে দিব। নজরুলকেও দেখে নিব। সেখানে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে শাকিল চাকু দিয়ে রোজিনার গলায় আঘাতের মাধ্যমে মৃত্যু নিশ্চিত করে বাথরুম থেকে বের হয়ে ওয়াল টপকে পালিয়ে যায়।
আবদুল বাতেন বলেন, শাকিলকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানা গেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের পাশ থেকে চাকুটি উদ্ধার করা হয়। ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একদিকে স্বামীর সঙ্গে প্রেম, অন্যদিকে ভাগিনা এবং ফুফাত ভাই। এটাই ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বলে মনে করি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুর এলাকার ৮৩৯ নম্বর বাড়ির নিচতলায় রোজিনা আক্তার মিতু নামের ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করেন ভাগ্নে আহমেদ শরীফ শাকিল। ওই ঘটনার পর গতকাল মাদারীপুরের শিবচর এলাকা থেকে এক বিশেষ অভিযানে আহমেদ শরীফ শাকিলকে গ্রেফতার করে ডিবি।
রোজিনার বাবার বাড়ি নোয়াখালীর কবিরহাট থানার ইন্দ্রপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মোরশেদ আলম। চার বোন আর পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে রোজিনা অষ্টম। ২০০৯ সালের ১২ জুন পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রোজিনার। বিয়ের পর থেকে স্বামীর বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার চরফকিরা গ্রামেই থাকতেন। সন্তানদের লেখাপড়ার কথা বিবেচনা করে প্রায় দুই বছর ধরে ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন রোজিনা।




























