মঙ্গলবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি

রোহিঙ্গাদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ ছিলো : মিয়ানমারের দুই সৈনিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময়ে সৈনিকদের প্রতি নির্দেশ ছিলো, রোহিঙ্গাদের নির্মূল করতে, দেখামাত্র গুলি করে হত্যা করার।

রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) দেয়া স্বীকারোক্তিতে মিয়ানমারের দু’জন সৈনিক এ কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফরটিফাই রাইটস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়া ওই দুই সৈনিক হলো– মায়ো উইন তুন (৩৩) এবং জ নায়েং তুন (৩০)। আদালতের কাছে তারা স্বীকার করেছে, ২০১৬-১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময় তারা সম্পৃক্ত ছিল। অপারেশনের সময়ে তারা নারী, শিশুসহ নিরীহ মানুষদের হত্যা, গণকবরে মাটি চাপা দেয়া ও ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধের কথা স্বীকার করে।

আদালতে দেয়া অপ্রকাশিত স্বীকারোক্তিতে এই দুই সেনা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মিয়ানমার সেনাদের ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময় রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ এবং শিশুদের হত্যার সাথে তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে বর্ণনা দিয়েছেন।

সেসময় মায়ো উইন তুন দেশটির বুথিডাং টাউনশিপের তাং বাজার গ্রাম ও আশেপাশের গ্রামে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে সে। আর জ নায়েং তুন মংডু টাউনশিপের পাঁচটি গ্রামে হত্যা, গণকবরে লাশ দাফনসহ রোহিঙ্গাদের উপর অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

ওই সৈনিকরা মিয়ানমার আর্মির ১৯ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে যারা সরাসরি এ ধরনের নৃশংসতার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। এছাড়া ছয় জন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংস অপরাধ করার নির্দেশ দিয়েছে। যাদের মধ্যে একেজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, একজন কর্নেল এবং তিন অধিনায়ক।

ফরটিফাই রাইটসের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুধুমাত্র এই দুজন কমপক্ষে ১৮০ জন রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

মায়ো উইন তুন স্বীকারোক্তিতে বলেন, ‘কর্নেল থান থাকি রোহিঙ্গাদের সমূলে হত্যার নির্দেশ দেন। এরপর সৈনিকরা মুসলিমদের কপালে গুলি করে এবং লাথি মেরে কবরে ফেলে দেয়।’ বুথিডং অঞ্চলে কয়েকটি গ্রাম ধ্বংস করা, ৩০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকা, এছাড়া আরও ৬০ থেকে ৭০ জন রোহিঙ্গা হত্যার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার বিষয়েও মায়ো স্বীকারোক্তি দেয়।

জ নায়েং তুন বলেন, ‘মংদু টাউনশিপে ২০টি গ্রাম ধ্বংস এবং অন্তত ৮০ জনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এছাড়া, সার্জেন্ট পায়ে ফোয়ে অং এবং কিয়েত ইয়ু পিন তিন জন রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষণ করেছে, যার সাক্ষী আমি।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই স্বীকারোক্তির ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুই সৈনিক কোর্টের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ভবিষ্যতে মামলায় কাজ করবে। আইসিসির বিভিন্ন ধরনের সাক্ষী সুরক্ষার (উইটনেস প্রটেকশন) নিয়ম আছে এবং তার অধীনে এ ধরনের সাক্ষীদের সব ধরনের সুরক্ষা দেয়া হয়। এ বিষয়ে দ্রত পদক্ষেপ গ্রহণ করার হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, আইসিসি’তে রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০