রবিবার ১৫ই মার্চ, ২০২৬ ইং ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘খুঁজে বের করুন কেন নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়’

আকাশবার্তা ডেস্ক :

সারাদেশে প্রতিদিনই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে, আইনও হয়েছে। প্রশ্ন হলো বিশ্বের বহু দেশেই ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইন আছে। বাংলাদেশে আইনও আছে। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনা হচ্ছে, কেন বন্ধ হচ্ছে না এর কারণ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীতে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। নারীর প্রতি বর্বরতা ও সিলেটে পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।

ধর্ষণ কেন হয়, এ নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানিয়ে পোশাকের দায় খোঁজার পরামর্শও দেয়া হয়েছে বরিশালের চরমোনাইয়ের পীরের নেতৃত্বাধীন দলটির পক্ষ থেকে।

তিনি বলেন, আমার মায়া লাগে, আপনি একজনকে বাঘের মুখে ঠেলে দেবেন, আর বাঘকে বলবেন খবরদার কিছু করবে না। এটা ইনসাফ হতে পারে না। বরং বাঘ থেকে দূরে থেকে বাঁচতে হবে।’ ধর্মভিত্তিক দল ইসলামী আন্দোলনের ধর্ষণবিরোধী এক সমাবেশে পুরুষকে বাঘ আর নারীকে খাবারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

নারীদেরকে পুরুষ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়ে ফয়জুল করীম বলেন, ‘আমার মায়া লাগে, আপনি একজনকে বাঘের মুখে ঠেলে দেবেন, আর বাঘকে বলবেন খবরদার কিছু করবে না। এটা ইনসাফ হতে পারে না। বরং বাঘ থেকে দূরে থেকে বাঁচতে হবে।’

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করায় পুরুষদের নিয়ে চিন্তিত এই ধর্মীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘জানি না কত পুরুষ এই ফাঁসির দড়িতে ঝুলবে।’ ‘ধর্ষণের আইন হয়েছে। আমি অনুরোধ করব অপপ্রয়োগ যেন না হয়।’

ধর্ষণের কারণ জানতে গবেষণার পরামর্শ দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতা বলেন, ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে, আইনও হয়েছে। প্রশ্ন হলো বিশ্বের বহু দেশেই ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইন আছে। কিন্তু ধর্ষণ বন্ধ হচ্ছে? এর কারণ খুঁজতে হবে।’

ধর্ষণের জন্য নারীদের পোশাককে দায়ী করে সম্প্রতি সমালোচিত হয়েছেন চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। পরে অবশ্য ক্ষমা চেয়ে তিনি তার ভিডিও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নারীকে দায়ী করার যে প্রবণতা, তার প্রতিবাদে সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার পদযাত্রা করেছেন চার তরুণ।

ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির ‘কেউ কেউ মনে করে খোলামেলা পোশাক ধর্ষণের জন্য দায়ী নয়। আমি মনে করি সরকারি উদ্যোগে একদল মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ করা হবে যারা গবেষণা করে বের করবেন কেন ধর্ষণ হয়।

‘যদি নারীর পোশাক পুরুষদের উত্তেজিত না করে, তবে পোশাক দায়ী নয়। মনোবিজ্ঞানীরা যদি বলেন পোশাকই পুরুষকে উত্তেজিত করছে, তা হলে পোশাকই দায়ী’-ফয়জুল করীম বলেন। ধর্ষণ বন্ধে ইসলাম কী বলছে সে বিষয়ে গবেষণার পাশাপাশি ইসলামি আইন প্রণয়ন করার পরামর্শও দেয়া হয় সমাবেশে।

উল্লেখ্য, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলনও চলমান। সকল শ্রেণিপেশার মানুষ এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতাও প্রকাশ করেছেন। দেশের বিভিন্ন আদালতে নারী নির্যাতনের মামলা ঝুলে আছে এক লাখ ৬৪ হাজার ৫৫১টি (মার্চ ৩১, ২০১৯ পর্যন্ত)। এসব মামলার বড় অংশ ধর্ষণের মামলা। ধর্ষণ হলে মামলা হয় কিন্তু বিচার হওয়ার নজির খুবই কম। দু’-একটা বিচার হলেও সাজা হয় সংক্ষিপ্ত সময়ের।

ফলে ধর্ষক সাজা ভোগ করে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়ায়। তাই ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি ওঠে বেশ জোরালোভাবে। সেই সাথে দাবি ওঠে দ্রুত সময়ে বিচার নিশ্চিতেরও। ফলে গণদাবিকে আমলে নিয়ে সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে।

দ্রুততার সাথে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান-সংক্রান্ত অধ্যাদেশও জারি করে। গেলো মঙ্গলবার অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। মামলা শুরু থেকে বিচার শেষ করতে হবে ছয় মাসের (১৮০ দিন) মধ্যে। বিচারক বদলি হলেও মামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১