আকাশবার্তা ডেস্ক :
হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার যে অভিযোগ উঠেছে, তার দায় নিজেদের ওপর নেয়ার চেষ্টা করছে তার সহযোগীরা। ধানমন্ডি থানায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের মুখোমুখি বসিয়ে সেদিনের ঘটনা জানতে চায় পুলিশ।
এসময় ইরফানের সহযোগীরা এই ঘটনার দায় নেয়ার চেষ্টা করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলে, ইরফানের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই তারা গাড়ি থেকে নামে এবং মারধর করে। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডি মডেল থানার হাজতখানা থেকে মিন্টো রোডে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেয়া হয় ইরফান ও তার সহযোগীদের।
ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী জাহিদ ও হাজী সেলিমের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এ বি সিদ্দিক ওরফে দীপুর বিরুদ্ধে তিন দিনের যে রিমান্ড আদেশ হয়েছে, এই সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে ডিবির তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগ। বুধবার রাতেই ধানমন্ডি মডেল থানায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে থানা পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র বলছে, আসামিদের মুখোমুখি বসিয়ে সেদিনের ঘটনা জানতে চাওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলে, ইরফানের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই তারা গাড়ি থেকে নামে এবং মারধর করে। এর আগে গত বুধবার রাতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধানমন্ডি মডেল থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া।
তিনি জানান, ‘মামলাটির তদন্তভার ডিবির তেজগাঁও বিভাগে হস্তান্তর করার আদেশ হয়েছে। মামলার নথিপত্র যা আমাদের কাছে আছে, তা এখনো হস্তান্তর করিনি। সেটা নিয়েই কাজ করছি। সকালের দিকে আসামিদের হস্তান্তর করবো।’
অন্যদিকে র্যাবের দায়ের করা অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায়ও ইরফান ও জাহিদের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানা গেছে।
ইরফান ডিবিতে, আরও ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন : হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের মামলাটি তদন্তের ভার গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেয়া হয়েছে।
ধানমন্ডি থানার ওই মামলায় বুধবার ইরফান, তার দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এই মামলায় গ্রেপ্তার আরেক আসামি হাজী সেলিমের প্রটোকল কর্মকর্তা এবি সিদ্দিক দীপুকেও আগের দিন তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল।
পুলিশের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, গতকাল দুপুরে মামলার তিন আসামিসহ মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে র্যাবের দায়ের করা অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায়ও ইরফান ও জাহিদুলকে সাতদিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে চকবাজার থানার ওসি মওদুত হাওলাদার জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গতকাল দুপুরে তাদেরকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৪ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত রোববার রাতে ল্যাবএইডের সামনে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধরের ঘটনায় সোমবার ধানমন্ডি থানায় ইরফান ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের মামলার আসামি সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের প্রটোকল কর্মকর্তা এ বি সিদ্দিক দীপুকে মঙ্গলবার ঢাকার হাকিম আদালতে নেয়া হয়। আদালত তাকে রিমান্ডে পাঠিয়েছে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের মামলার আসামি সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের প্রটোকল কর্মকর্তা এ বি সিদ্দিক দীপুকে মঙ্গলবার ঢাকার হাকিম আদালতে নেয়া হয়। আদালত তাকে রিমান্ডে পাঠিয়েছে।
ওইদিনই পুরান ঢাকার দেবি দাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইরফান ও জাহিদুলকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সেলিমকে মদ্যপান ও ওয়াকিটকি ব্যবহারের অপরাধে দেড় বছর এবং জাহিদুলকে ওয়াকিটকির জন্য ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
পুরান ঢাকায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে মেজো ছেলে ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজায় কারাগারে যাওয়ায় ইতোমধ্যে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
বাড়িতে অভিযানে ইরফানের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল ও একটি এয়ারগান উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে এবং কয়েক বোতল মদ পাওয়ায় মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে চকবাজার থানায়। একইভাবে জাহিদের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল উদ্ধারের অভিযোগে অস্ত্র আইনে এবং ৪০৬টি ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে।