বিনোদন ডেস্ক :
রামায়ণের অহল্যা, ইন্দ্র ও গৌতম মুনির কাহিনি নিয়ে ইউটিউবে হাজির পরিচালক সুজয় ঘোষ। পৌরাণিক কাহিনিটিকে থ্রিলারের মোড়কে পৌঁছে দিলেন বিশ্বের দরবারে। সম্প্রতি অনলাইনে মুক্তি পেল সুজয় ঘোষের ১৪ মিনিটের শর্টফিল্ম ‘অহল্যা’।
শুরু থেকে অহল্যাকে নিয়ে রয়েছে দ্বি-মত। দেবরাজ ইন্দ্র অহল্যার রূপে আকৃষ্ট হয়ে, গৌতম মুনির বেশ ধরে সহবাস করেছিলেন তাঁর সঙ্গে। একথা জানতে পেরে গৌতম মুনি অভিশাপ দিয়েছিলেন দু’জনকে। স্বামীর শাপে পাথর হয়েছিলেন অহল্যা। অনেকে মনে করেন বিনা দোষে শাস্তি পেয়েছেন অহল্যা। কেউ কেউ বলেন, স্বামীর থেকে সুখ না পাওয়ায় জেনে বুঝে অহল্যা ইন্দ্রের সঙ্গে লিপ্ত হয়েছিলেন সহবাসে। সুজয়ের এই ছবিতেও স্পষ্ট এই দুটি দিক। অহল্যা দোষী নাকি নির্দোষ প্রশ্ন ছেড়ে যাবে মনে।
যদিও সুজয়ের ছবিতে দেখা যায় অন্যের স্ত্রী-র প্রতি আসক্তির কারণে শাস্তি স্বরূপ পুতুল হয়ে যায় ইন্দ্র। কিন্তু অহল্যা? না! দিব্যি সে তো ভালো রয়েছে স্বামীর সঙ্গে। কিন্তু সত্যি কি সে সুখী? এমন একজন বুড়োর সঙ্গে যে তাঁকে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে চলেছে, তাঁর পুতুল খেলার অংশ হিসাবে। জাদু পাথরের স্পর্শে গৌতম (সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়) পাল্টে দিচ্ছে মানুষের চেহারা। পুতুল বানাচ্ছে তাঁদের। কে জানে হয়ত অহল্যাও গৌতমের হাতের পুতুল। তবে চেহারা নয় এখানে পাষাণ হয়েছে তাঁর মন। তাই প্রশ্ন থাকছে এখানেও। কেননা অনেকে বলে থাকেন পৌরাণিক কাহিনিতে ঋষি গৌতম নাকি জানতেন, ইন্দ্র তাঁর বউয়ের কাছে আসবেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি ঘরের বাইরে যান। বলা হয় অভিশাপে নাকি আনন্দ মুনির। তাই গৌতমের আনন্দের খেলায় এবারও শিকার অহল্যা।
তবে সুজয়ের এই ছবিটি কিছুটা রামায়ণ ও প্রফেসার শঙ্কুর ককটেল বলা চলে। কারণ এখানে শঙ্কুর মতো পুতুল হয়ে যায় ইন্দ্র। তবে লিন্ডকুইস্টের হাত থেকে ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু মুক্ত করেছিল অ্যাকরয়েড। তাই এ তল্লাটে তেমন কিছু ঘটবে কি না জানতে সিক্যুয়েল ছাড়া অবশ্য কোন গতি নেই।
ছবিতে শিল্পী গৌতম সাধুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অহল্যার ভূমিকায় রাধিকা আপতে, পুলিস ইন্সপেক্টর ইন্দ্র সেনের ভূমিকায় টৌটা রায় চৌধুরী।
অভিনয়, লাস্যে রাধিকার এমন রূপের দেখা আগে মেলেনি। তবে নায়িকার বাঙলা উচ্চারণ কানে লাগছে দর্শকদের। অন্যদিকে বরাবরের মতো অসাধারণ সৌমিত্র। কম যায়নি টোটাও। সব মিলিয়ে মনে খিদে রেখে কখন যে ১৪ মিনিট কেটে যাবে আপনি বুঝতেও পারবেন না।