আকাশবার্তা ডেস্ক :
রাজধানীর কলাবাগানে ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তে বিকৃত যৌনাচারের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক।
জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রী রক্তক্ষরণের কারণে মারা গেছে, এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তিনি।
চিকিৎসকের দেয়া ওই সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়েটির গায়ে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। কোনো জোরাজুরির আলামত তারা পাননি।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ এও জানিয়েছেন, মেয়েটির যৌনাঙ্গের পাশাপাশি পায়ুপথেও জমাট বাধা রক্ত ছিল।
তিনি বলেন, তারা দলগত শারীরিক মিলনের ফলে এমনটা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন তিনি। অবশ্য এ জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে মেয়েটিকে আনোয়ার খান মডার্ন কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কাছে আসার আগেই সে মারা যায়।
এদিকে ওইদিন এই ঘটনায় মেয়েটির বাবা ধর্ষণ ও হত্যার মামলা করেছেন, যাতে আসামি করা হয়েছে ফারদিন ইফতেখার দিহান নামে এক যুবককে। তিনি ‘এ’ লেভেলের ছাত্র।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন বেলা ১১টার পর মেয়েটি কোচিংয়ের শিট আনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। এরপর দুপুরের পর তার মায়ের মোবাইল ফোনে কল করেন দিহান। জানানো হয় মেয়েটি অচেতন হয়ে গেছে। এরপর হাসপাতালে গিয়ে মেয়েটির মা জানতে পারেন তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় দিহানকে এর আগেই আটক করে পুলিশ। মামলা করার পর শুক্রবার বিকালে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। তবে দিহান ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলে আর রিমান্ড দেয়া হয়নি তাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে দিহান মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। আর মেয়েটির ময়নাতদন্ত হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে।
এই প্রসঙ্গে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ বলেন, প্রচুর রক্তক্ষরণে মূলত তার মৃত্যু হয়েছে। মেয়েটির রক্তক্ষরণ হয়েছে যোনিপথ ও পায়ুপথ থেকে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় সে হাইপো ভোলেমিক শকে মারা গেছে।