সম্প্রতি ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রিলি, লিখিত ও ভাইভা শেষ হয়েছে। আবারও নতুন করে ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধনের সার্কুলার প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ। এখানে বলা হয়েছে ৬ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে। তবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত অনেকেই অভিযোগ করে বলছেন, আমাদের নিয়োগের কোনো সুরাহা না করেই একের পর এক নতুন নিবন্ধনধারীদের জোট বৃদ্ধি করছে এনটিআরসিএ। এদিকে গত ২৮ মে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদধারীদের মেধাতালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এতে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে। একইসঙ্গে এ সময়ের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও আদালত ‘নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ৩ বছর নির্ধারণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না ও নিবন্ধন সনদধারীদের কেন নিয়োগ দেওয়া হবে না’ এই মর্মে রুলও জারি করেছেন আদালত। শিক্ষা সচিব, এনটিআরসিএর চেয়ারম্যানসহ ৬ জনকে আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত ২৫ মে নিবন্ধন সনদধারী সিরাজগঞ্জের লিখন কুমার সরকারসহ বিভিন্ন জেলার ১৪৯ জন সনদের মেয়াদ ৩ বছর নির্ধারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। এ বিষয়ে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান। পরবর্তীতে সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ জানান, আদালত যে রুল জারি করেছেন তার সময় মতো জবাব দেয়া হবে। নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ৩ বছরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টা এড়িয়ে যান।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানাগেছে, ষাট হাজারের বেশি শিক্ষক জাল সনদে চাকরি করছেন। তারা মাসের পর মাস তুলে নিচ্ছেন ‘মান্থলি পে-অর্ডার’ (এমপিও) সুবিধা। একই সঙ্গে তারা তৎপর হয়ে উঠেছেন ভুয়া সনদ ‘বৈধ’ করার জন্য। এর জন্য ‘ম্যানেজ’ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। শিক্ষকদের ভুয়া সনদ ‘বৈধ’ করার অনিয়ম চলছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি)। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মূল ও বিএডের (ব্যাচেলর অব এডুকেশন) জাল সনদে এ যাবৎ চাকরি করে আসছিলেন এসব শিক্ষক। তারা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা নিচ্ছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা চক্রের যোগসাজশে। অনিয়ম চলতে থাকায় জাল সনদধারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাদের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর গত দেড় বছরে কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তথ্যমতে, ডিআইএ গত কয়েক বছরে জাল সনদে (শিক্ষাগত মূল সনদ) নিয়োগ পাওয়া এক হাজার দুইশরও বেশি শিক্ষককে চিহ্নিত করে। নিবন্ধন সনদের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য ডিআইএ থেকে গত বছরের মাঝামাঝি চিঠি দেওয়ার পর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) জবাব দেয়। এনটিআরসিএর জবাব থেকে ১০৫ জনের মধ্যে ৯৩ শিক্ষকের সনদ জালের প্রমাণ মেলে। ডিআইএর কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সারা দেশের ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে আরও ১০ হাজারের বেশি জাল সনদধারী শিক্ষক চিহ্নিত হতে পারে। জাল সনদে নিয়োগ পেলেও তাদের এমপিওভুক্তিতেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১ থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদধারীদের খুব শিগগিরই মেধা তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সারা দেশে ৬০ হাজার ভুয়া সনদধারী বহালতবিয়তে চাকরি করছেন। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নীরব। বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা মিলিয়ে দেশে প্রায় এক লাখ পদ শূন্য আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সূত্র : আমার সংবাদ/আকাশবার্তা।