আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকরকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক শাসন জারির প্রতিবাদে দেশটিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজপথে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে যাচ্ছে দেশটির সাধারণ মানুষ। এবার বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাতভর অভিযান চালিয়ে সাধারন লোকজনকে আটক করছে কর্তৃপক্ষ। খবর মিয়ানমার নাউ।
রাতে অভিযান চালিয়ে নাগরিকদের আটকের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী আসার বিষয়ে সতর্ক করতে শহরের লোকজন একত্রিত হয়ে নিজেদের এলাকায় টহল দিচ্ছে। এছাড়া হাড়ি-পাতিল বাজিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর আগমন সম্পর্কে প্রতিবেশীদের সতর্ক করছেন তারা।
সেনাবাহিনীর ক্রমাগত ধরপাকড়ের ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের রাত কাটছে নির্ঘুম। দেশের বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক লোকজনের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে। সামরিক সরকারের বিরোধিতা করার এমন প্রমাণ পাওয়া গেলেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে এমন দুঃসময়ে লোকজন একে অন্যকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের বেশ কিছু বিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, লোকজন নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ির শব্দ শুনতে পেয়েই একে অন্যকে সতর্ক করে দিচ্ছেন।
এদিকে রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কতৃত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর পন্য বয়কটের ডাক দিয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই সেনা সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে দেশটির সাধারন মানুষ।
শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক ঘোষণার মাধ্যমে বিক্ষোভ প্রচারণার বিশিষ্ট সাত আয়োজকের ওপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কথা জানায় সেনাবাহিনী।
এর আগের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে সাড়ে তিন শতাধিকের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



