আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আরব বিশ্বের দেশ ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটির রাজধানী সানায় ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।
রবিবার (২১ই মার্চ) ভোরের দিকে এই হামলা হয়েছে বলে সানার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
এর আগে গত শুক্রবার (১৯ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি সরকার জানায়, রাজধানী রিয়াদের একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর ওই স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।
হামলার পর সৌদি আরবের সরকারি প্রেস এজেন্সি বিবৃতির মাধ্যমে নিন্দা জানিয়েছে। তারা জানায়, বিশ্বের এনার্জি সাপ্লাইয়ের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য হামলাটি করা হয়েছে।
সৌদি জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে ধেয়ে আসা বিস্ফোরক বোঝাই একটি ড্রোন আটকের পর সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।
সানার বাসিন্দারা রয়টার্সকে বলেছেন, রবিবার রাজধানী সানার দক্ষিণে হুথির সামরিক শিবিরের আবাসিক এলাকা এবং শহরের উত্তরাঞ্চলে তাদের একটি উৎপাদন স্থাপনায় জোটের যুদ্ধবিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।
হুথি-পরিচালিত আল মাসিরাহ টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানা বিমানবন্দর-সহ এর আশপাশের এলাকায় সৌদি জোটের বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ তেল রফতানিকারক সৌদি আরবে সম্প্রতি হামলা বৃদ্ধি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
সৌদি আরব বলছে, বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি এবং জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া বেশিরভাগ ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র আটকের পর ধ্বংস করছে তারা। যদিও কিছু ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রায়ই লক্ষ্যে আঘাত হানছে।
২০১৫ সালের শুরুর দিকে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদি ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। ক্ষমতাচ্যুত এই প্রেসিডেন্টকে ফেরাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।
জাতিসংঘ ইয়েমেনের পরিস্থিতিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ মানবিক সঙ্কট হিসেবে বর্ণনা করেছে। যুদ্ধের কারণে দরিদ্রতা বৃদ্ধিসহ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ইয়েমেন। এই যুদ্ধে ১২ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিকসহ ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ।
সূত্র : রয়টার্স।