শনিবার ১৪ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৩০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম তুলে ধরায় হেনস্তার শিকার রোজিনা’

আকাশবার্তা ডেস্ক :

প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরায় আমলা ও আমলানির্ভর সরকারের হাতে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

রোববার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ সালের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রুমিন বলেন, আমলা ও আমলানির্ভর এই সরকার চরম বেপরোয়া ও বাড়াবাড়ি আচরণ করছে। রিপোর্টে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরায় আমলা ও আমলানির্ভর সরকারের হাতে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। আমলাদের বাড়াবাড়ি ও বেপরোয়া আচরণের শিকার হয়েছেন অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক ও খাবার চেয়ে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা ফরিদ আহমেদ।

সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যারা ছয় ঘণ্টা সাংবাদিক রোজিনাকে আটকে রেখে অপদস্ত করেছেন, তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে বারবারই সংখ্যার ওপর জোর দেয়। কোনো গণমাধ্যমের ওপর যদি সত্য রিপোর্ট প্রকাশের জন্য নানা ধরনের নিবর্তন নেমে আসে, তখন কোনো গণমাধ্যমই আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, তা সে সংখ্যা যা–ই হোক না কেন। আর সে কারণেই বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ক্রমাগত পেছাতে পেছাতে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম। মিয়ানমার, আফগানিস্তান এমনকি উগান্ডাও বাংলাদেশের ওপরে।

তিনি বলেন, করোনার শুরুতেই মাস্ক, পিপিই, সুরক্ষা সরঞ্জাম, টেস্টের জালিয়াতি, কেনাকাটায় লুটপাটের খবর আমাদের সামনে নিয়মিত এসেছে। সম্প্রতি ভয়ংকর দুর্নীতির খবর এসেছে স্বাস্থ্য খাতে জনবল নিয়োগ নিয়েও।

বিরোধীদলীয় এই হুইপ বলেন, আমলাদের বাড়াবাড়ি আমরা সুলতানা সরোবর নামকরণের সময়ই দেখেছিলাম। বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক সেই খবর প্রকাশ করলে শারীরিক নির্যাতনের পর মোবাইল কোর্ট দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। অথচ সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট অসাংবিধানিক।

রুমিন ফারহানা বলেন, হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে মহাবিপদে পড়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের ফরিদ আহমেদ। তিনি চারতলা বাড়ি এবং একটি হোসিয়ারি কারখানার মালিক, এমন তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও ৩৩৩ নম্বরে কল করে অযথা হয়রানি ও সময় নষ্ট করার দায়ে ফরিদ আহমেদকে শাস্তি হিসেবে ১০০ গরিব লোকের মধ্যে খাদ্যসহায়তা বিতরণের নির্দেশ দেন। এটা না করতে পারলে জেলে যেতে হবে, এই ভয়ে তিনি স্ত্রীর অলংকার বন্ধক রেখে এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে ঋণ করে ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় করে খাদ্যসহায়তা করতে বাধ্য হন। এই ঘটনায় এক ইউএনও কোনো সুনির্দিষ্ট আইন ছাড়াই তাকে শাস্তি দেওয়া এবং অতি ক্ষমতাশালী আমলাতন্ত্র এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যাচ্ছেতাই করার জন্য।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১