আকাশবার্তা ডেস্ক :
রাজধানীর আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ভবন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম ইসরাত জাহান তুষ্টি (২২)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
রোববার (৬ জুন) সকাল ৭টার দিকে ইউনিট ২-এর ১৮ নম্বর ভবনের নিচতলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পলাশী ব্যারাক ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার ইউনিট ২-এর ১৮ নম্বর ভবনের নিচতলায় একটি বাসায় সাবলেট ভাড়া থাকতেন তুষ্টি। তার সঙ্গে আরও এক ছাত্রী থাকতেন। সকালে তার রুমমেট ঘুম থেকে উঠে বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে লাগানো দেখতে পান। তবে ভেতরে পানি পড়ছিল। খবর পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি বাথরুমের ভেতরে পড়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
ইসরাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে।
তবে হল বন্ধ থাকায় তিনি আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে সাবলেট থাকতেন। তার বাড়ি নেত্রকোনা আটপাড়া উপজেলায়, বাবার নাম আলতু মিয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাফায়েত আহমেদের বাড়িও নেত্রকোনায়। ইশরাতকে কোয়ার্টার থেকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) বিকেলে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে যাওয়ার সময় ইশরাত জাহান বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল আগে থেকেই তার অ্যাজমা (হাঁপানি) ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে শরীর খারাপ লাগায় কালকে সে আর বাসা থেকে বের হয়নি। পরে রাতে যখন রুমের সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, সে তখন ওয়াশরুমে যায়। ঠিক কখন সে ওয়াশ রুমে গিয়েছিল, তা কেউ বলতে পারছে না। ভোর সাড়ে পাঁচটা কি ছয়টার দিকে রুমমেটরা সাড়াশব্দ পায়, কিন্তু বাথরুমটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। আমি অন্য জায়গায় থাকি। ইশরাতের রুমমেট ও সহপাঠী রাহনুমা তাবাসসুম রাফি আমাকে ফোন দিলে আমিও সেখানে যাই। পরে ৯৯৯-এ ফোন দেওয়ার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে সাতটার দিকে অজ্ঞান অবস্থায় ইশরাতকে বাথরুম থেকে বের করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন বলেন, ভোর ৫টা ১০ মিনিটে ফোনে খবর পেয়ে পলাশী ব্যারাকের স্টেশন অফিসার সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সেখানে যান। বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বাথরুমের ভেতর থেকে পানি পড়ার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। পরে দরজা ভেঙে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ইশরাত জাহানকে উদ্ধার করেন। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইশরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। ইশরাতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
ইশরাতের লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। মৃত্যুর খবর শুনে আজ সকালেই আবাসিক শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে যান বঙ্গমাতা হলের প্রাধ্যক্ষ জাকিয়া পারভীন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ইশরাত জাহানের রুমমেট ও পারিবারিক সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে তিনি পলাশী এলাকায় সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারে থাকতেন। আজ সকালে তার রুমমেট বাথরুম বন্ধ দেখতে পায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা এসে দরজা কেটে ইশরাতকে বের করে। সংশ্লিষ্ট দুই থানাকে অনুরোধ করা হয়েছে, এখানে ঠিক কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে বের করার জন্য।