আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা বন্ধ করা, টিকার ব্যাপারে সংশয়ী মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করার মতো প্রস্তাব বিবেচনা করছেন চ্যান্সেলর ম্যার্কেল ও মুখ্যমন্ত্রীরা৷ মহামারি মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানোরও উদ্যোগ চলছে৷
জার্মানিতে সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে করোনা মহামারি মোকাবিলার বিষয়টি স্পর্শকাতর হলেও নতুন সরকার গঠন হওয়া পর্যন্ত ঢিলেমির কোনো অবকাশ দেখছে না বিদায়ী প্রশাসন৷ তাই ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়া পর্যন্ত জরুরি পদক্ষেপগুলি চালু রাখার তোড়জোড় চলছে৷ জার্মানিতে ‘জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ মহামারি পরিস্থিতি’-র মেয়াদ আগামী ১১ই সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে৷ সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-র সূত্র অনুযায়ী ১৬টির মধ্যে ১১টি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই অবস্থাক মেয়াদ আরো বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন৷ বিশেষ এই ক্ষমতার আওতায় সরকার মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরীক্ষা, টিকা কর্মসূচি, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ইত্যাদি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে৷ সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগে সেই প্রস্তাব অনুমোদন করাতে হবে৷
জার্মানিতে করোনা সংক্রমণের হার অপেক্ষাকৃত ধীরে হলেও বেশ কয়েক সপ্তাহ ঘরে লাগাতার বেড়ে চলায় সরকারের উপর আরও কড়া পদক্ষেপ নেবার জন্য চাপ বাড়ছে৷ মঙ্গলবার চ্যান্সেলার আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা সে বিষয়ে আলোচনায় বসছেন৷ একাধিক সংবাদ মাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী তার আগে বেশ কিছু প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে৷ প্রথমত গত মার্চ মাস থেকে সবার জন্য বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার যে সুযোগ চালু করা হয়েছে, অক্টোবর মাসে তা বন্ধ করা হতে পারে৷ জনসংখ্যার প্রায় ৫৫ শতাংশ করোনা টিকার সব প্রয়োজনীয় ডোজ পেয়ে যাওয়ায় এমন ভরতুকি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে৷ যাদের পক্ষে স্বাস্থ্যগত কারণে টিকা নেওয়া সম্ভব নয়, শুধু তাদের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার সুযোগ চালু রাখতে পারে সরকার৷
সুযোগ সত্ত্বেও জার্মানিতে এখনো যারা করোনা টিকা নিতে প্রস্তুত নয়, তাদের অধিকার নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে৷ একদল রাজনীতিক এমন মানুষের উপর চাপ বাড়াতে টিকাপ্রাপ্ত ও করোনাজয়ীদের জন্য বাড়তি সুযোগসুবিধার দাবি করছেন৷ অন্যরা করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে তাদেরও সেই সুযোগ দেবার পক্ষে সওয়াল করছেন৷ তারা পরোক্ষভাবে টিকা বাধ্যতামূলক করার বিরোধী৷ বরং আরো প্রচার চালিয়ে সংশয়ী মানুষকে টিকা নিতে রাজি করানোর চেষ্টা চালাতে চান তারা৷
জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ করোনা টিকা পেয়ে যাওয়ায় সংক্রমণের হার বাড়লেও গুরুতর অসুস্থ ও হাসপাতালের আইসিইউ-র উপর চাপ গত বছরের তুলনায় কম থাকবে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন৷ ফলে শুধু প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের গড় সাপ্তাহিক হার বা ইনসিডেন্সের ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিয়ে অন্যান্য কিছু সূচক বিবেচনা করার জন্য সরকারের উপর চাপ বাড়ছে৷ মঙ্গলবারের আলোচনায় এমন এক সমাধানসূত্র উঠে আসতে পারে৷ (রয়টার্স, ডিপিএ, ডয়েচ ভ্যালি)