আকাশবার্তা ডেস্ক :
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার আদালত থেকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তায় তাকে ওই কারাগারে নেয়া হয়।
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সিনিয়র জেলসুপার আব্দুল জলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে পরীমনিকে কাশিমপুর কারাগারে আনা হচ্ছে- এমন খবরে গণমাধ্যমকর্মী ও বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা কারা ফটকে এসে জড়ো হন। অনেকে প্রিজনভ্যানের ভিতরে পরীমনিকে এক নজর দেখার চেষ্টা করেন। তবে তাকে কেউ দেখতে পারেননি।
তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে দ্রুতগতিতে পুলিশের কড়া প্রহরায় প্রধান কারাফটক দিয়ে কারা কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
জানা গেছে, পরীমনির অন্যতম আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর এক আবেদনের ওপর ভিত্তি করে তাকে ডিভিশন দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে।
ডিভিশন দেয়ার আদেশে বলা হয়েছে, যেহেতু আসামি একজন চিত্রনায়িকা ও শিল্পী, সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে বসবাস করা তার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ কারণে কারাবিধি মেনে কারা কর্তৃপক্ষকে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেয়া হলো।
পরীর আইনজীবী নীলাঞ্জনা তার আবেদনে বলেন, যেহেতু নায়িকা পরীমনি একজন স্বনামধন্য নায়িকা, তার জন্য সাধারণ হাজতিদের সঙ্গে বসবাস করা অস্বস্তিকর ও তার মানসিক পীড়ন হতে পারে। এমনকি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। এ কারণে তাকে কারাগারে ডিভিশন দেয়ার আবেদন করছি।
আবেদনে তিনি বলেন, পরীমনির জীবনযাপন, পোশাক-পরিচ্ছদ ও অনেক বিষয় অন্যদের থেকে আলাদা। এ কারণে তাকে কারাগারে ডিভিশন দেয়া জরুরি।
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব- মহিলা কারাগার) মো. আব্দুল জলিল জানান, সন্ধ্যা ৭ টার দিকে পরীমনিকে মহিলা কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছে। এরপর তাকে কারাগারের কোয়ারেন্টিন সেন্টার রজনীগন্ধা ভবনে নেয়া হয়। যেখানে নতুন আসা সব বন্দিদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।
আব্দুল জলিল বলেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নতুন বন্দিদের ১৫ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭ দিন পরও সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরীমনিকেও ১৫ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। নতুন নির্দেশনা পেলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নিব।
গত ১০ আগস্ট দুপুরে চার দিনের রিমান্ড শেষে নায়িকা পরীমনিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৪ আগস্ট বিকালে পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালান র্যাবের গোয়েন্দা দলের সদস্যরা। প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযান শেষে রাত ৮টার দিকে তাকে আটক করে র্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করার কথা জানায় র্যাব। এ ঘটনায় পর দিন পরীমনির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে র্যাব বাদী হয়ে একটি মামলা করে।

