বৃহস্পতিবার ১২ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক বছরে কোটিপতি বেড়েছে প্রায় ১৪ হাজার

আকাশবার্তা ডেস্ক : 

করোনাকালে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও বেড়েছে কোটিপতির সংখ্যা। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক জুন শেষে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৯১৮ জনে, যা গত বছরের একই সময়ে (জুন শেষে) ছিল ৮৬ হাজার ৩৭ জন।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোটিপতি গ্রাহক বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৮১ জন। শতকরা হিসাবে কোটিপতি বেড়েছে ১৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনা শুরু হলে লকডাউন-বিধিনিষেধে বন্ধ হয়ে যায় বেশিরভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান। মহামারির কারণে গোটা বিশ্বের মতো দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেকে কাজ হারিয়েছেন আবার অনেকে কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেও আমানতকারীর সঙ্গে কোটি টাকা জমার হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট ১২ কোটি ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ২৬৬টি হিসাব খোলা হয়। যেখানে জমা ছিল ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

মোট হিসাবের শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কোটিপতিদের। চলতি বছরের জুন শেষে কোটি টাকার হিসাব দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৯১৮টিতে। এসব হিসাবে জমা ছিল মোট ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ৪৪ শতাংশই কোটিপতি হিসাবধারীদের।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, করোনা মহামারির মধ্যেও ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ে দেশের ব্যাংক খাতে ১০ হাজার ৫১ জন নতুন কোটিপতি ব্যাংক হিসাবে যুক্ত হয়েছে। এসময় কোটিপতি হিসাবগুলোতে আমানত বেড়েছিল ৬৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। এদিকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৬ হাজার ২৮টি এবং আমানত বেড়েছে ৩৯ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকে কোটিপতি হিসাব ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। এসব হিসাবে আমানত ছিল ৫ লাখ ৯৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা।

কোটি টাকার আমানত বাড়ার দুটি কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মহামারির মধ্যেও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক। একই সঙ্গে গত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের আয়বৈষম্য ব্যাপক হারে বেড়েছে। যখন আয় বাড়ে সঙ্গে সঙ্গে আয়বৈষম্য বাড়ে, তখন উচ্চআয়ের মানুষের অর্থের যোগান বেড়ে যায়- এটা একটা কারণ।

দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে এখন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। এক সময় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ২১ থেকে ২২ শতাংশ উঠেছিল। গত অর্থবছরে এটা ৮/৯ শতাংশে নেমে এসেছে। যখন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম হয়, তখন উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে যায়। ওই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকে কিন্তু সবাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়, কারণ এখানে ঝুঁকি থাকে। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন শর্তের কারণে সবাই যেতে চায় না। তাই সহজে ব্যাংকে আমানত হিসাবে জমিয়ে থাকে। এসব কারণেই বড় আমানতকারীর সংখ্যা বাড়ছে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল পাঁচ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এর পর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি। ২০২০ সালে ডিসেম্বর শেষে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১