
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে রাজনীতির মাঠে দিন দিন যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে ঘিরে চলছে নানা হিসাব নিকাশ। জেলার রায়পুরে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা ক্রমান্বয়ে দ্বিধা-বিভক্তের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সু-সংগঠিত করার চেষ্টার পাশাপাশি তাদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের তৎপরতা চালাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, কুয়েত আওয়ামীলীগ নেতা শহীদ ইসলাম পাপুল, স্বাচিপ নেতা এহসানুল কবীর জগলুল, আওয়ামীলীগের নৌকার টিকেট পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি হারুনুর রশিদের ব্যক্তি ইমেজ নৌকা প্রতীকের জয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় অনুষ্ঠানগুলোতে তার সরব উপস্থিতি রয়েছে।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নুরউদ্দিন চৌধরী নয়ন রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় ও তিনি তৃণমূলে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে।
স্বাচিপ নেতা এহসানুল কবীর জগলুল একজন স্বজ্জন ব্যক্তি হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। তিনিও দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।
অন্যদিকে শহীদ ইসলাম পাপুল নবাগত নেতা হিসেবে অল্প সময়ের মধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সমর্থ হয়েছেন। ধর্ণাঢ্য ও তরুণ এ নেতা ইতোমধ্যে রাজনীতির মাঠে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
এই আসনে বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন থাকলেও স্থানীয় সাংগঠনিক দূর্বলতার কারণে দলের ভরাডুবির আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন তৃণমূলের কর্মীরা। বিএনপি থেকে সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়ার নামই আলোচিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বিএনপির আরেক প্রার্থী খালেদা জিয়ার সাবেক প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়ক কর্নেল মজিদ (অবঃ) বিএনপির টিকিট পেতে চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। পদবঞ্চিত, দলের বাইরে থাকা কিছু নেতাকর্মী কর্নেল মজিদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে এ আসনে আবুল খায়ের ভূঁঁইয়ার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জাতীয় পার্টির এখানে রাজনৈতিক কর্মকা- দশম সংসদ নির্বাচনে মোহাম্মদ নোমান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর সব সময় নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত করছেন। সভা, সেমিনার, রাস্তাঘাটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। জাতীয় পার্টি নেতাকর্মীরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আগের চেয়ে বর্তমানে জেলা জাতীয় পার্টির জনসমর্থন বেড়েছে। নেতাকর্মীদের সাথে এমপির সু-সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান মহাজোটে জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে মোহাম্মদ নোমান আবারো জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে জানা যায়।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দলের জেলা আমীর মাওঃ রুহুল আমিনের নামই আলোচিত হচ্ছে বেশি।
এই আসনে ভোটের অংকে জামায়াত শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচনে না গেলে আওয়ামীলীগের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে জামায়াতের নিবন্ধন না থাকায় সেক্ষেত্রে জামায়াত থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সব মিলিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে বিএনপি, আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত মিলে একটি জমজমাট চতুর্মূখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় ভোটাররাও একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন।