রবিবার ৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ নেতা-কর্মী আহত হন। শনিবার রাতে ও রবিবার দিনভর পৃথকভাবে এসব ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সাবেক এমপি শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির জেলা শহরের বাসভবনে প্রতিনিধি সভা শেষে ফেরার পথে বিএনপির নেতা আনোয়ার হোসেন বাচ্চু ও আবুল কালাম আজাদ কালামুন্সী গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন যাবত চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ও সদর উপজেলা (পূর্ব) বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলটি জর্জরিত। দলের মধ্যে বিরোধ নিস্পত্তি ও চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জেলা নেতারা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার রাতে শহরের বশির ভিলায় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করে।

কিন্তু সভাপতি প্রার্থী হিসাবে বাচ্চুর পক্ষে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসাবে কালামুন্সীর পক্ষে-বিপক্ষে স্ব স্ব অনুসারীরা উস্কানীমূলক স্লোগান দেয়। সভা শেষে একপর্যায়ে নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরার পথে রাতে এনিয়ে প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের উপর নাছির বাহিনীর অনুসারী সুলতান ফারুক ও কাউসারের নেতৃত্বে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।

এরআগে জেলা শহরের উত্তর তেমুহনীস্থ স্টেশন, ঝুমুর হল এলাকা এবং পরদিন চন্দ্রগঞ্জের সমতা সিনেমা হলের সামনে বাচ্চু ও কালামুন্সী গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব মুন্না রিপন, মাহমুদুল হাসান রনি, ছাত্রদল নেতা নোমান, আশিকুর রহমান, রোমন, শরীফ, সাগর, ছোট জনি, সুমন, রাকিব, খলিলসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের মধ্যে ইয়াকুব মুন্না রিপন, মাহমুদুল হাসান রনি, নোমান, আশিকুর রহমানসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহতবস্থায় উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, বিগত ক্ষমতাসীন সময় থেকেই দলের পদ-পদবী ও কর্তৃত্ব এবং এলাকায় আধিপত্য নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী নাছির ও জিসান। তাদের মৃত্যুর পরও উভয় গ্রুপের অনুসারীরা এখনো এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দলের কতিপয় নেতা জানান, সদর (পূর্ব) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু নাছিরের পক্ষে এবং জিসানের অনুসারী হিসাবে পরিচিত কালামুন্সী একে অপরের ঘোর বিরোধী। চন্দ্রগঞ্জ বাজারে আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিগত একযুগ ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই হানাহানির ঘটনা ঘটে। এতে যুবদল নেতা মহসীন, ছাত্রদল কর্মী ফরহাদ, হঠাৎ নেতা আবুসহ অনেকে নিহত এবং অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে এখনো পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ ব্যাপারে, সদর (পূর্ব) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বাচ্চুর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

উল্লেখ্য, গত প্রায় ৮ বছর যাবত সম্মেলন না হওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল দলটির সদর (পূর্ব) বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম।

 

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১