আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইউক্রেনে ভ্লাদিমির পুতিনের আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ।
তেল ও গ্যাস আমদানি বন্ধের ফলে মার্কিনিরাও সমস্যায় পড়বে বলে বাইডেন স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পুতিন যে যুদ্ধে জড়িয়েছেন আমরা সেই যুদ্ধে ভর্তুকি দেয়ার অংশ হব না।
নতুন পদক্ষেপকে ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসনে অর্থায়নের বিরুদ্ধে একটি ‘শক্তিশালী ধাক্কা’ বলে অভিহিত করেছেন বাইডেন।
ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিন কখনই জয়ী হবে না বলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেন।
বাইডেন বলেন, আমরা রাশিয়ার তেল-গ্যাস এবং জ্বালানিসহ সব ধরনের আমদানি নিষিদ্ধ করছি। তার মানে আমেরিকার বন্দরে রাশিয়ান তেল আর গ্রহণযোগ্য হবে না। যুদ্ধবাজ পুতিনের বিরুদ্ধে আমেরিকার পক্ষ থেকে এটি বড় ধাক্কা।
অন্যদিকে জ্বালানি আমদানিতে রাশিয়ার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল ইউরোপের দেশগুলো। তাদের প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩৫ শতাংশ আমদানি হয় রাশিয়া থেকে।
এ প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, এটা জানি, আমাদের মতো পদক্ষেপ নেয়ার মতো অবস্থানে অনেক ইউরোপীয় মিত্র দেশের হয়তো নেই। আমরা ইউরোপীয় দেশগুলোর চেয়ে অভ্যন্তরীণভাবে অনেক বেশি জ্বালানি উৎপাদন করি। রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ইউরোপ ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল তৈরিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।
এদিকে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে ইউক্রেন থেকে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীর সংখ্যা ২০ লাখে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় গণঅভিবাসন শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি এক টুইটে বলেছেন, আজ ইউক্রেন থেকে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীর সংখ্যা ২০ লাখে পৌঁছেছে।