আকাশবার্তা ডেস্ক :
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জরুরি ভিত্তিতে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
বৃহস্পতিবার (১২ মে) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
গত ৩ মে রোজার ঈদ ঘিরে ২৬ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ থেকে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাতে দেখা যাচ্ছে, ওই ১৬ দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৮৪৪ জন।
তাদের হিসাবে ঈদের সড়কের মৃত্যুর এই সংখ্যা গত বছরের ঈদুল ফিতরের সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।
ওই সময়ে ঘটা মোট ৩৭২টি দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা হয়েছে ১৬৪টি, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪ দশমিক ০৮ শতাংশ।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৪৫ জনের, আহত হয়েছেন ১১০ জন। নিহতের এই সংখ্যা মোট মৃত্যুর ৩৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং আহতের ১৩ দশমিক ০৩ শতাংশ।
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক হাদিউজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মোটরসাইকেল কখনো গণপরিবহনের বিকল্প হতে পারে না। এবারের ঈদে যারা মোটারসাইকেল ব্যবহার করেছে, তারা রাইড শেয়ারিং নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর ৫ লাখ মোটরসাইকেল বিপণন করে সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকা আয় হলেও দুর্ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
কোভিড মহামারীর কারণে দুই বছরে মোট চারটি ঈদ কেটেছে কোভিড বিধির নিয়মকানুনে। এবারে সংক্রমণ কমে আসায় পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের লম্বা ছুটি কাটাতে গ্রামে গেছেন অনেকে। আর সেই যাত্রায় সড়ক, মহাসড়কে, ফেরি পারাপারে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মত।
ঈদের আগেই যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনারোধে মহসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ, রিকশা, ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল। তাদের হিসাবে গত দুই বছরে দেশের পরিবহন খাতে ১০ লাখ নতুন মোটরসাইকেল যুক্ত হয়েছে এবং রাস্তায় নেমেছে প্রায় ২০ লাখ ইজিবাইক।
সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার উল্লেখযোগ্য তৎপরতার কারণে এবার ঈদ যাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও ২৫ লাখ মোটরসাইকেল, ৪০ লাখ ইজিবাইক ঈদের রাস্তায় থাকার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।
মোজাম্মেল হক আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার এই চিত্রকে একটি প্রতীকী চিত্র বলা চলে। প্রকৃতপক্ষে দেশে বর্তমানে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক ক্যান্সারের মতো বেড়ে যাওয়ার কারণে পঙ্গু হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ পঙ্গু রোগী ভর্তি হলেও ঈদের এইসময়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন হারে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হয়েছে। যার ৬০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫ শতাংশ ইজিবাইক দুর্ঘটনায় শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২’শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। দেশের বিভাগীয় হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। জেলা সদর হাসপাতালেও আক্রান্ত রোগীর যেধরনের ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের চিত্র সংবাদপত্রে উঠে আসে না বলেই আমরাও এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরতে পারি না।