বিষাদময় বিদায় নিচ্ছেন, একজন নন্দিত ইউএনও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা উপজেলার এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে। তবুও ক্লান্তি যেন তাঁকে ছুঁতে পারেনি। যার কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা ছিলনা। কী সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা, রাত কাজ করছেন তো, করছেনই। যিনি মাঠে, ঘাঠে, পথে, প্রান্তরে ছুটে চলতেন বিরামহীন দুর্বার গতিতে মানুষের কল্যাণে। সামাজিক অবক্ষয় রোধ, বাল্যবিয়ে, যৌতুক, ইভটিজিং, সরকারি ভূমি দখলবাজদের বিরুদ্ধে যার অবস্থান ছিল বজ্রকঠিন।
জননন্দিত এই অফিসারের বিদায়ে পুরো উপজেলায় হাজারো মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলেও কিছু মানুষ রূপি অমানুষ যে খুশি হয়নি, তা কিন্তু নয়। ভূমি খেকো দস্যুরা অপেক্ষায় ছিলেন, কখন বিদায় নিবে দুঃসাহসিক এই অফিসার। ইউএনও মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের বিদায়ে ওইসব লোকেরা স্বস্তি পেলেও চরম অশান্তি আর অস্বস্তি বোধ করছেন শান্তিকামী লাখো মানুষ।
সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালনে যিনি কখনও আপোষ করেননি। ভয় করেননি কোনো রক্তচক্ষুকে। সাংবাদিক সমাজকে সব সময় ভালোবেসেছেন। সব কাজে সাংবাদিকদের ডেকে কাছে রেখেছেন। ঘৃনা করেছেন তাদেরকে, যারা মানুষের ক্ষতি করে, যারা দলের ব্যানারে ভূমি দখল করে, আর যারা মতলববাজ তাদেরকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী এই মহান ব্যক্তি মাঝে মাঝে নানা অন্যায়, অবিচার দেখে নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে ফেসবুক পেইজে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। যথা সময়ে যথাযথ কাজে হাজির হওয়া এই ব্যক্তি সময়ের প্রতি ছিলেন অত্যান্ত যত্নবান।
লক্ষ্মীপুর সদর থেকে বদলী হয়েছেন, নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যরে শহর কক্সবাজার সদর উপজেলায়। কক্সবাজার হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবা সরবরাহ করা হয় বলে নিশ্চই আপনার জানা আছে। ইয়াবা ব্যবসার সাথে ওইখানকার অনেক রাঘলবোয়াল জড়িত সেটাও আপনার অজানা নয়। এদের সাথে আপোষহীন দায়িত্ব পালন করবেন, এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আছে। সদর উপজেলায় আপনার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন, কুমিল্লার তিতাস উপজেলা থেকে বদলী হওয়া মকিমা বেগম। আমাদের প্রত্যাশা তিনিও প্রজাতন্ত্রের দায়িত্ব পালনে আপনার মত দুঃসাহসী এবং আপোষহীন হবেন।
পরিশেষে আপনার দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করছি। আল্লাহ যেন আপনার সততা, ন্যায় ও কর্মনিষ্ঠা পালনে সহায় হোন।