সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন

আদালত অবমাননা আইন অবৈধ : হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আইন আদালত ডেস্ক : 

সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সরকারি কর্মচারীদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের কথা বিবেচনায় রেখে সরকারের করা আদালত অবমাননা আইন-২০১৩ অবৈধ ও সংবিধান-পরিপন্থী ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত আইনটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) ২০১৩ সালের ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা করেছেন সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।এতে প্রায় ৯ বছর ঝুলে থাকা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হল। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

এর আগে ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন। পরে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আপিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। তবে তা  মঞ্জুর করেননি সুপ্রিমকোর্টের চেম্বার আদালত। পরে আবেদনটি ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন চেম্বার আদালতের তৎকালীন (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি) বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। কথা ছিল, ওই বছরের ৩ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

পরে চেম্বার আদালতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদন জানান। তাদের পক্ষে আদালতে আবেদনটি দাখিল করেন অ্যাডভোকেট মো. বখতিয়ার হোসেন।

ওই সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মূল রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ।

এর আগে ২০১৩ সালের  ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩ পাস হয়। ১৯২৬ সালের আদালত অবমাননার আইন রহিত করে ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশিত হয়। পরে আইনের ৪, ৫, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৩(২) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে  দুই আইনজীবী রিট আবেদনটি করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৩ এপ্রিল আদালত রুল জারি করেন। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত বলেছিলেন, ৪, ৫, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৩(২) ধারা সংবিধানের ১০৮, ১১২ ও ২৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত।

আদালত বলেছিলেন, যেকোনো আইনে দেশের সব নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। এই আইনে সেকশন অব পিপলকে (জনগণের একটা অংশকে) সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক, সংবিধানের ২৭, ১০৮ ও ১১২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। অবশ্যই সত্য প্রকাশ ও সমালোচনার সীমা অবারিত নয়। বিধিনিষেধ ছাড়া অবারিত স্বাধীনতা পূর্ণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। সঠিক ও সত্য প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট পরিমণ্ডল থাকতে হবে।

রায়ে আদালত বলেন, ‘আমরা চাই না, কারও হাত বাঁধা থাকুক। আমরা প্রতিদিনই প্রেসের (গণমাধ্যম) সাহায্য নিই। প্রেস শক্তিশালী মাধ্যম। আমরা প্রেসকে লিমিট করতে চাই না। আবার প্রেসও যেন লিমিটের বাইরে না যায়।’

রায়ে বলা হয়, আদালত কখনো অবমাননার অভিযোগ আনতে চায় না। সীমা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এটা করতে হয়।

এদিকে ২০১৩ সালের আইনে কোন কোন বিষয় আদালত অবমাননা নয়, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আগের আইনে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা ছিল না।

আইনের ৪ ধারায় নির্দোষ প্রকাশনা বা বিতরণ অবমাননা নয়, ৫ ধারায় পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ আদালত অবমাননা নয়, ৬ ধারায় অধস্তন আদালতের সভাপতিত্বকারী বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালত অবমাননা নয়, ৭ ধারায় কিছু ক্ষেত্র ছাড়া বিচারকের খাসকামরায় বা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ আদালত অবমাননা নয় বলে আইনে ব্যাখ্যাসহ বলা হয়েছে। আইনের ৯ ধারায় আদালত অবমাননার পরিধি বিস্তৃত না হওয়া অর্থাৎ এই আইনে শাস্তিযোগ্য নয় এমন কোনো কাজ আদালত অবমাননা বলে গণ্য হবে না।

আইনের ১০ ধারায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কথা বলা হয়েছে। ১০(১) ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রচলিত আইন, বিধিমালা, সরকারি নীতিমালা, পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন, স্মারক ইত্যাদি যথাযথভাবে অনুসরণ করে জনস্বার্থে ও সরল বিশ্বাসে কাজ করলে তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে না। ১০(২) ধারায় বলা হয়েছে, উপধারা (১)-এর অধীনে করা কাজের বিষয়ে আদালতের আদেশ-নির্দেশ যথাযথ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন বা প্রতিপালন করা অসম্ভব হলে তার জন্য আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা যাবে না। আর আইনের ১৩(২) ধারায় বলা হয়েছে, আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তি হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আপিলে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে এবং আদালত তাতে সন্তুষ্ট হলে তাকে ক্ষমা করে দণ্ড মাফ বা কমাতে পারবেন। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং ১০৮ অনুচ্ছেদে ‘কোর্ট অব রেকর্ড’ রূপে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা বর্ণনা করা হয়েছে। আর ১১২ অনুচ্ছেদে সবাই সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা করার কথা বলা হয়েছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31