আকাশবার্তা ডেস্ক :
আর দু’দিন পর ২ সেপ্টেম্বর শনিবার পবিত্র ঈদুল আযহা। এটি মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। মহান আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির জন্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী ঈদুল আযহার দিন পশু কুরবানি করেন। ঈদুল আযহার দিনসহ তিনদিন পশু কুরবানি করার নিয়ম আছে।
অনেকে ঈদুল আযহাকে আদর করে হাম্বা ঈদ বলে থাকেন। ইতিমধ্যে কুরবানির পশুর হাটগুলো জমে ওঠেছে। তবে এবার সারাদেশে বন্যা এবং গো-খাদ্যের অভাবের কারণে কুরবানিকারীর জনসংখ্যা কম বলে জানিয়েছেন অনেকে। অন্যদিকে পশু রাখার স্থানের অভাবের কারণে অনেকে পছন্দের গরু বা ছাগল এখনও ক্রয় করেননি। ক্রেতা সাধারণ জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এতে মানুষ খুশি বলে জানান তারা।
লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের উপছে পড়া ভিড়। শেষ মুহুর্তে পছন্দের গরু বা ছাগল কেনার জন্য ক্রেতারা ছুটছেন এ বাজার থেকে ওই বাজারে। বাজার ঘুরে ঘুরে দেখাও নাকী খুব আনন্দের। অনেকে পশু পছন্দ করার জন্য বাজারের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ আবার দরদাম ঠিক হলে কিনে নিচ্ছেন। গরু কেনার আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ি থেকে দলবেঁধে আসছেন ছেলে বুড়ো সবাই। একটা গরু বিক্রি হলেই পুরো বাজারে শোর দিয়ে উঠেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
এ দিকে পশুরহাটে এবং পশুবাহী গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি রুখতে এবার আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারী দেখা গেছে। তবে বন্যায় মহাসড়কের বেহালদশার কারণে পশু আমদানি কম বলে জানিয়েছেন ব্যাপারীরা। তাই শেষ মুহুর্তে পশুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই।
অপরদিকে ক্রেতারা সাধারণ অভিযোগ করেন, বিভিন্ন বাজারে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে পশু বিক্রির হাসিল অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে পশুরহাট ইজারাদারদের সাথে ক্রেতাদের বচসা হওয়াসহ হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশে নির্দিষ্টস্থানে পশু জবাই করার স্থান নির্ধারণ করার জন্য পরিপত্র জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নির্দিষ্টস্থানে পশু জবেহ করার জন্য হ্যান্ডবিল প্রকাশসহ এলাকায় এলাকায় মাইকিং করেছেন।
বন্যার কারণে এবার ঈদুল আযহার আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়লেও সবমিলিয়ে একটি ভালো পরিবেশে সবাই ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।