শুক্রবার ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ইং ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘চিতা’ গ্রেপ্তার

৫ই জানুয়ারী অবৈধ হলে ১৫ই ফেব্রুয়ারী কী বৈধ ছিল?

১৯৯৬ সালের জানুয়ারী, আন্দোলনে সারাদেশ উত্তাল। দাবি ছিল একটাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন। কিন্তু তখনকার সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়া বললেন, নিরপেক্ষ কেবল পাগল আর শিশু ছাড়া আর কেউই হতে পারেনা। বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা বললেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া তারা কেউ নির্বাচনে যাবেন না।

বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের দাবিকে পদদলিত করে ১৫ ফেব্রুয়ারী একতরফা নির্বাচন আয়োজনের দিকে ধাবিত হতে লাগলেন তখনকার সরকার। তখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, আব্দুর রহমান বিশ্বাস। বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা আন্দোলনের পাশাপাশি রাজনৈতিক এই জনপ্রিয় ইস্যুকে একটি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য বার বার রাষ্ট্রপতির ধারস্ত হতে বঙ্গভবনে ছুটে যান। কিন্তু রাষ্ট্রপতি এর কোনো সমাধানের চেষ্টা করেননি। ফলে ১৫ ফেব্রুয়ারী একতরফা নির্বাচন আয়োজন সম্পন্ন হলো।

তখন আওয়ামীলীগের সাথে যুগপথ আন্দোলনে শরীক হয় জাতীয়পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ বাংলাদেশের অন্যান্য সব রাজনৈতিক দল। ১৫ ফেব্রুয়ারীর ওই নির্বাচনে বিএনপির সাথে কেবল ভোটে অংশ নেয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি কর্ণেল ফারুকের গড়া দল ফ্রিডম পার্টি। নির্বাচন আয়োজন প্রাক্কালে তখন অসহযোগ আন্দোলন চলছিল। ১৮ দিনের টানা অসহযোগ আন্দোলন ব্যাপক জনসমর্থন পায় বিরোধীদলগুলো। রাস্তায় কোনো জ্বালাও পোড়াও ছিলনা। কিন্তু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা আপন ইচ্ছায় বিরোধীদলের সাথে একমত পোষন করে রাস্তায় একটি গাড়িও নামায়নি। লাগাতার অসহযোগ আন্দোলনে দেশ কার্য্যত অচল হয়ে পড়ে, তবুও সরকার দাবি না মেনে ১৫ ফেব্রুয়ারী তারিখে একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নগ্নভাবে ব্যবহার করে। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারী তারিখে গণকার্ফ্যু ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। শুধু যানবাহন নয়, একজন মানুষও যেন রাস্তায় না নামেন সেজন্য শেখ হাসিনা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

আমি সেদিন দেখেছি, দেশের প্রত্যেকটি মানুষ বিরোধীদলের ডাকে সাড়া দিয়ে একজন মানুষও রাস্তায় নামেননি। ভোটারবিহীন ওই নির্বাচনে ১৬৪ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। বিরোধীদলের আসনে বসেন খুনি কর্ণেল ফারুক। মাত্র ১১দিন টিকে ছিলো ওই সংসদ। ১১দিনের ওই সংসদে পাশ করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এরপর ক্ষমতায় টিকতে না পেরে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন বেগম খালেদা জিয়া।

ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গঠিত ওই সংসদ এবং সেই সংসদে পাশ করা আইন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বৈধ হলে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন অবৈধ হবে কেন? ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনকে আমি বিতর্কমুক্ত বলে দাবি করিনা। কারণ ওই নির্বাচনেও ১৫৪ জন এমপি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে ১৫ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন যতটা বিতর্কিত ছিল, ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন ততটা বিতর্কিত নয় এবং ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গঠিত সংসদ এখনও দেশ পরিচালনা করছে।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে বলা হলো বর্তমান সংসদ ইমম্যাচিউড, অপরিপক্ব। অথচ এই সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছেন। সেই রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন বর্তমান প্রধান বিচারপতিকে। বর্তমান সংসদ যদি বিতর্কিত হয় বা ইমম্যাচিউড হয় বা অপরিপক্ব হয়। তাহলে সেই সংসদ সদস্য কর্তৃক নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কী ইমম্যাচিউড নয়?

বিচারপতিদের শপথে বলা আছে, আবেগ বা অনুরাগের বশবর্তী কোনো রায় প্রদান করা যাবেনা। অথচ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে অনুরাগের প্রকাশ পেয়েছে। যা, শপথ ভঙ্গ হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন আইনজ্ঞরা। বিতর্কিত কোনো নির্বাচনকেই এদেশের জনগণ সমর্থন করেনা। কিন্তু এদেশে বিচারহীনতা এবং বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ কারা আগে দেখিয়েছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন? যেদেশে আইন করে হত্যার বিচার রুদ্ধ করা হয়, সেদেশে কখনও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনা। কিন্তু আমরা এত দুর্ভাগা জাতি, আমাদের দেশে ইনডেমিনিটি আইনের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার বিচার বন্ধ করা হয়েছিল।

জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত, আমরা ব্যথিত, আমরা মর্মাহত। আমাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, এই প্রত্যাশা রইল।
লেখক : মো. আলী হোসেন, সম্পাদক-আকাশবার্তাবিডি ডটকম।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮