
নিজস্ব প্রতিবেদক :
কর্মজীবী মানুষ যখন গভীর ঘুমে। ঠিক তখন ইয়াবা ক্রেতা-বিক্রেতাদের মোটরবাইকের বেপরোয়া যাতায়াত আর কোলাহলে ঘুম ভেঙে যায় তাদের। নানা ছদ্মবেশে বিক্রেতাদের অবস্থান দেখে কেউ বোঝার উপায় নেই, এরাই মাদক বিক্রেতা। কেউ টর্চ লাইট হাতে মাছ শিকারী, আবার কেউ এলাকার পাহারাদার। এরাই আবার দিনে এলাকার বড় ভাই, সমাজপতি বা সালিশদার। তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারো সাধ্য নেই।
এভাবেই ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি চলছে নোয়াখালীর চৌমুহনী শহরের উপকণ্ঠ করিমপুর গ্রামে। গ্রামটির নেত্রকোনা নামকস্থানে বসবাসকারী নারী-পুরুষ সবাই মাদক বিক্রেতা। একই এলাকার নতুন রাস্তা নামকস্থানে আরো বেপরোয়া মাদক ক্রেতা-বিক্রেতারা। শ্যামল নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী বড় ভাইর প্রত্যক্ষ শেল্টারে এই ব্যবসা চলে আসছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান।
বেগমগঞ্জ থানা পুলিশও বিষয়টি অবগত বলে জানিয়েছেন তারা। তবে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে থানায় মোটা অংকের মান্থলি দেওয়া হয়। যার কারণে পুলিশও এনিয়ে মাথা গামায় না।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, করিমপুর গ্রামের নুর ইসলাম, তার ছেলে বাপ্পী, আবুল কাশেম ওরপে কাইস্সা এরা ৩জনই পুরো এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। নেত্রকোনা এলাকায় প্রতিটি ঝুপড়ি ঘরে মাদক ব্যবসা চলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, এক জায়গায় বসে না থেকে বিভিন্ন ছদ্মবেশে ৫/১০ পিস করে ভ্রাম্যমাণ ইয়াবা বিক্রি চলে। যার কারণে বোঝার উপায় থাকেনা যে, এরাই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।
এছাড়াও চৌমুহনী শহরের রেলস্টেশন, গণিপুর রোড, স্টেডিয়াম এলাকা, মেথর পট্টি, মুছিপাড়ায় দেদারছে চলে গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবার রমরমা কারবার। উঠতি বয়সি কিশোর ও যুবকরা বেশিরভাগ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন পরিবারের অভিভাবকরাও তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ বা বিপথ থেকে ফেরাতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ এবং র্যাবের অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল।