আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গার ওপর নির্যাতন, অত্যাচার ও গণহত্যার প্রতিবাদে এশিয়াজুড়ে বিক্ষোভ-মিছিল ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশে হাজার-হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে রোহিঙ্গা হত্যা ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান। শনিবার সিএনএন এ খবর জানায়। বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান এই বিক্ষোভ-মিছিল কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার নাগরিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো মিয়ানমারে গণহত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশ ঠাঁই নিয়েছেন তাদের স্বদেশে ফেরিয়ে নেওয়ার জরালো দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।তারা মিয়ানমার ‘গণহত্যা’ বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দেশে-দেশে বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী ও দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্ট অং সান সুচির কঠোর সমালোচনা করেন।
একই দাবিতে ঢাকায় গণজাগরণ মঞ্চের আয়োজনে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে গণজাগরণ মঞ্চের নেতারা জানান, রোহিঙ্গা হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে সরকার যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে তারা আগামী সোমবার ঢাকায় মিয়ানমারের দূতাবাস অবোরধ করবেন। র্যালিতে অংশ নেওয়া মাহফুজা হক নীলা বলেন, রোহিঙ্গা জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতেই আমি র্যালিতে অংশ নিয়েছি। একই ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও করা হবে হেফাজতে ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন ১৩ সেপ্টেম্বর এই কর্মসূচি পালন করবে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।
৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।
সেনাবাহিনীর ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত ৪শ’র বেশি মানুষ মারা গেছে, আর প্রাণভয়ে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বাংলাদেশে। নৌপথে পালিয়ে আসার পথে নৌকাডুবিতে মারা গেছে আরও শতাধিক রোহিঙ্গা। আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।