লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে সোনালী ব্রিকফিল্ডের মালিক ফারুকী আজমের কাছে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে বিক্ষোভ ও
মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ব্রিকফিল্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা আদায়ের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পাননি তারা।
এদিকে, গত ১১ অক্টোবর সোনালী ব্রিকফিল্ডের পরিবেশ ছাড়পত্র ও নবায়নের আবেদন বাতিল করে পরিবেশ অধিদপ্তর। জানা গেছে, ইটভাটার এক কিলোমিটারের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় আইন অনুযায়ী ভাটাটির অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে এনআরবিসি ব্যাংকের নিলামের মাধ্যমে সোনালী ব্রিকফিল্ডটি ক্রয় করেন আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন। পরে চলতি বছর তিনি ব্রিকফিল্ডটি মঞ্জুর হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে ভাড়া দেন। এ বিষয়ে একটি ভাড়ার চুক্তিপত্রও রয়েছে।
মঞ্জুর হোসেন বলেন, ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে নিজাম উদ্দিন ব্রিকফিল্ডটি ক্রয় করার পর আমি ভাড়া নিয়েছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাতিল হওয়ার পর রিভিউ আবেদন করে ব্রিকফিল্ডটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।
ফারুক আজমের পাওনাদারদের বিষয়ে জানতে চাইলে মঞ্জুর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সোনালী ব্রিকফিল্ডের মালিক ফারুকী আজমের কাছে তাদের সবার প্রায় ৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। দীর্ঘদিনেও পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ায় তারা ব্রিকফিল্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা দ্রুত পাওনা পরিশোধ এবং বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান। নাহলে ব্রিকফিল্ডটি চালু করতে দিবেন না বলেও হুশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাতিলের পরও ব্রিকফিল্ড এলাকায় সংস্কার কাজ চলার বিষয়ে মঞ্জুর হোসেন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরে রিভিউ করার পর তিনি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে রিভিউর বর্তমান অবস্থা এবং সংস্কার কাজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সোনালী ব্রিকফিল্ডের সাবেক মালিক ফারুকী আজম ও ব্রিকফিল্ডটির বর্তমান মালিক নিজাম উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।