
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসায় গত দুইদিন ধরে চলছে অচলাবস্থা। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঠুনকো অজুহাতে পঞ্চম, অষ্টম ও দশম শ্রেণির টেষ্ট পরীক্ষা নেওয়া বর্জন করেছে অন্যান্য শিক্ষকরা। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে এবং মাদ্রাসার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে মাদ্রাসার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন, বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাজিদুর রহমান।
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ৩ অক্টোবর থেকে তিনটি ক্লাসের ফাইনাল টেষ্ট পরীক্ষা শুরু হয়। শনিবার পর্যন্ত ৪টি বিষয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। হঠাৎ রোববার অষ্টম শ্রেণির বাংলা ১মপত্র এবং দাখিলের আরবি ২য়পত্র পরীক্ষার দিন সকালে শিক্ষকরা পরীক্ষা গ্রহণ করবেনা বলে শিক্ষার্থীদের জানায়। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং মাদ্রাসার প্রধান গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়।
অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার্থী মো. নাছির, মেহেদী হাসান, শাকিল আহমেদ, দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থী মিজানুর রহমান, জাবেদসহ অনেকেই জানান, রুটিন অনুযায়ী আমরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। কিন্তু রোববার এবং সোমবার দুইদিন ধরে আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন না শিক্ষকরা।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষক মাওঃ আব্দুস ছবুর, সিহাব উদ্দিন ও বহিস্কৃত সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া হেলালীসহ তারা জানান, গত ছয়মাস ধরে প্রাতিষ্ঠানিক বেতন না দেওয়া, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার কারণে আমরা পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ রেখেছি। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসাইনের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবেনা বলে তারা জানান। তবে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনিত শিক্ষকদের অভিযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা দ্বিমত প্রকাশ করেন।
মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওঃ মুহা. শওকত আলী জানান, আমি যথারীতি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনো শিক্ষক পরীক্ষা নিতে রাজি নয়। বিষয়টি আমি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানিয়েছি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওঃ মোশারফ হোসাইন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ পূর্ব শক্রুতাবশত। কারণ আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছি সাড়ে ৩ মাস হয়। অথচ প্রাতিষ্ঠানিক বেতন পরিশোধ বন্ধ রয়েছে ছয়মাস আগে থেকে। আমার আগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া হেলালী। অনিয়মের কারণে বহিস্কৃত হওয়ায় তিনি নতুন করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে।