আকাশবার্তা ডেস্ক :
গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে প্রায় তিনমাস পর দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।বুধবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাকে বহনকারী বিমানটি।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে রওনা করেন তিনি। সেখানে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ হাজারও নেতাকর্মী বিদায় জানান খালেদা জিয়াকে।
এদিকে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বেলা সাড়ে ৩টা থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকার নেতাকর্মীরাও এ অভ্যর্থনায় অংশ নেন।
বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে রাস্তার পাশে মানবপ্রাচীর তৈরি করেন তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনকে একনজর দেখতে সাধারণ জনতাও অংশ নেন বিএনপির এ অভ্যর্থনায়।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে তিন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি ও জাতীয় পতাকা অবমাননার দায়ে মানহানির দুইটি মামলা। এর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই বছর আগে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে আটজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় খালেদা জিয়াসহ ‘পলাতক’ আসামিদের বিরুদ্ধে গত ৯ অক্টোবর আরেকটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজির না হওয়ায় ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতে এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আদালত বৃহস্পতিবার এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অবশিষ্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়া আদালতে গিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা মোকাবেলা করতে জামিনের আবেদন জানাবেন। এদিকে যে দুই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে সেগুলোতে বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার কাগজ ও ফাইলপত্র সবই ঠিক করে রাখা আছে। আবেদন করলে আশা করি আদালত জামিন দেবেন।
গত ১৫ জুলাই লন্ডনের উদ্দেশে খালেদা জিয়া ঢাকা ত্যাগ করেন। সেখানে ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় থেকে পা, হাঁটু ও চোখের চিকিৎসা করান খালেদা জিয়া।