
নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের ফরাশগঞ্জ মুনছুর আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জুনিয়র সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করায় শিক্ষক-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অর্থ আত্মসাৎ, অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
ফরাশগঞ্জ মুনসুর আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফি উল্লাহ মিয়া ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি শূণ্য হয়।। এ সময় একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর সহকারী প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। কিন্তু চারমাস দায়িত্ব পালনের পর কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয় ম্যানেজিং কমিটি। এরপর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সেলিম আহমেদসহ কয়েকজনের অনুমতি নিয়ে আইনের তোয়াক্কা না করে সহকারী প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলামকে বাদ দিয়ে জুনিয়র শিক্ষক (শরীর চর্চা ) মাইন উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন।
এ ঘটনায় সহকারী শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে মাইন উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এছাড়াও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ওই ম্যানেজিং কমিটি সরকারি নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে মাইন উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
যেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিগত ৬ জুন ২০১১ইং তারিখের সংখ্যা শিম/শাঃ১১/৩-৯/২০১১/২৫৬ স্মারকে জারিকৃত পরিপত্রের ২নং ক্রমিকে বলা আছে, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক থাকা অবস্থায় তাকে ব্যতিত অপর কোন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার অর্পণ করা যাবে না। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পক্ষে কোন কারণে দায়িত্ব গ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ অসাদাচরণ বলে গণ্য হবে। অথচ ওই বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও নিয়ম না মেনে জুনিয়র সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে ওই বিদ্যালয়ে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাইন উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের বাইরে এনে মাঠে জড়ো করে সাংবাদিকদের তথ্য প্রদানে বাধা সৃষ্টি করেন এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরা চিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তালেব জানান, সরকারি নিয়মানুসারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।