আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফকে ৩ মাসের কারাদন্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক মীর শওকত হোসেন ৫ হাজার টাকা জামানত এবং আপিল করার শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন। মুক্তির পর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কারাগার থেকে স্থানীয় চিকিৎসকরা তাকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়ে যান।
এরআগে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের বিরুদ্ধে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন।
এদিকে লক্ষ্মীপুরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দেওয়া সাজা কেন বাতিল করা হবেনা। এ মর্মে কারণ দর্শাতে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর তাদের স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য আদেশ দেন হাইকোর্টের বিজ্ঞ বিচারক। একই দিন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফকেও আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্ল্যাহর দৌত বেঞ্চে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজি ও আশফাকুর রহমানের করা একটি রীটের শুনানী শেষে এই আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত। রীটটি শুনানী করেন, ব্যারিষ্টার এম এ আজিম।
জানা যায়, গত সোমবার (৪ ডিসেম্বর) জেলা শহরের কাকলি শিশু অঙ্গণ স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে প্রবেশ এবং পরীক্ষায় বিশৃংখলার অভিযোগ তুলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফ ও তার বড় ছেলে মিনহাজের সঙ্গে বাক বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলামকে লাঞ্চিত করা হয়। তাৎক্ষণিক পুলিশ ডেকে ডাক্তার সালাহ উদ্দিন শরীফকে আটক করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে ডেকে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয় এবং তড়িঘড়ি করে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
পরে দ্রুত ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে জেলায় কর্মরত চিকিৎসকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছুটে যান। এ সময় ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হৈচৈ করে প্রতিবাদ জানান। পরে জেলা প্রশাসক আইনী সহায়তার আশ্বাস দিলে তারা শান্ত হন।
অন্যদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদের সোমবার রাত ৯টার দিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক জরুরী সভায় মিলিত হয়। এ সময় তারা জেলা প্রশাসনের সকল সেবা কার্যক্রম ও সকল হাসপাতাল ক্লিনিক বন্ধ রাখাসহ ডাক্তার কর্মবিরতির হুমকি দিয়ে নিঃশর্তভাবে ওই চিকিৎসককে মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে মুক্তি দাবি করেন।
শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার দুপুরেই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মীর শওকত হোসেন আদালতে ৫ হাজার টাকা ভন্ডে দন্ডপ্রাপ্ত ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফকে আপিল করার শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন।