অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাব মেলা। গতকাল ছিল মেলার দ্বিতীয় দিন। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় দর্শনার্থীর ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন বিভিন্ন আবাসন কোম্পানি তাদের মূল্যছাড়ের বিষয় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরেন। এবারের মেলায় আগত দর্শনার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছে বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেড। মেলার প্রবেশমুখে বাঁপাশে স্টল নিয়েছে বিআরবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গতকাল মেলায় গিয়ে দেখা যায় আগত দর্শনার্থীদের ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিতে ডা. শাহরিয়ার তার মেডিকেল টিম নিয়ে বসে আছেন। মেডিকেল টিমে আরো আছেন, হাসপাতালের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, রিহ্যাব মেলায় আগত দর্শনার্থীদের এবং এখানে কর্মরত স্টলকর্মীদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে তাকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের অ্যাম্বুলেন্স রেডি আছে। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে তাৎক্ষণিক হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছি। হাসপাতালে পৌঁছানো পর্যন্ত খরচ বিআরবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করছে। এছাড়াও ফ্রি ব্লাড সুগার ও বিপি মেপে দিচ্ছে বিআরবি হাসপাতাল। এ ছাড়া নরমাল সমস্যার জন্য ডাক্তার পরামর্শ দিচ্ছেন। বড় কিছু হলে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পল্লী আবাসন ঋণ দিচ্ছে হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স : দেশের বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, উপজেলা সদর ও গ্রোথ সেন্টারে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) ঋণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। কিন্তু পল্লী জনগোষ্ঠীর আবাসনের জন্য ঋণ কার্যক্রম ছিল না। সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় পল্লী অঞ্চলের জনসাধারণের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ‘পল্লী আবাসন ঋণ কর্মসূচি’ চালু করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বাড়ি নির্মাণের জন্য একক ঋণ, গ্রুপ ঋণ এবং ফ্লাট ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রিহ্যাব মেলায় অংশ নেওয়া বিএইচবিএফসি। জানাগেছে, ‘পল্লীমা’ নামে তাদের পল্লী আবাসন ঋণ কর্মসূচি সম্পর্কে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে রিহ্যাব মেলায় দেওয়া স্টল থেকে দর্শনার্থীরা ঋণ সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা সদর এলাকা, উপশহর, উপজেলা সদর এবং গ্রোথ সেন্টারের নাগরিকরা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সি দেশের যেকোনো নাগরিক ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফ্লাট ঋণের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ডেভেলপারের নির্মাণ করা ফ্লাট ক্রয়ে আগ্রহী হতে হবে। কর্মকর্তারা জানান, গ্রুপে আবাসিক ভবন নির্মাণ করতে চাইলে গ্রুপ ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে। সরকারি চাকরিজীবী এবং কর্মজীবী নারীরা আবাসন ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
ঋণ গ্রহীতার মাসিক কিস্তি পরিশোধের যৌক্তিক সামর্থ্য থাকতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা সদর এলাকার জন্য ৮.৫ শতাংশ সুদ হারে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। পেরি আরবান, উপজেলা সদর ও গ্রোথ সেন্টার এলাকায় ৮.৬ শতাংশ সুদে ৫০ লাখ পর্যন্ত বাড়ি নির্মাণের জন্য একক ঋণ দেওয়া হয়। বাড়ি নির্মাণের জন্য গ্রুপ ঋণের ক্ষেত্রে ৮.৫ শতাংশ সুদে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। ফ্লাট ক্রয়ের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা সদর এলাকার জন্য ১০ শতাংশ সুদে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। পেরি আরবান ও উপজেলা সদর ও গ্রোথ সেন্টার এলাকায় ৯ শতাংশ সুদে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। তবে ঋণ পরিশোধের মেয়াদের ওপর সুদ কমবেশি হতে পারে।
হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্মকর্তারা বলেন, শহরের ওপর জনগণের অব্যাহত চাপ কমানো, পল্লী এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, শহরে ঘনবসতির চাপ কমানোসহ আরো অনেকগুলো কারণে এ ‘পল্লীমা ঋণ প্রকল্প’ চালু করেছে সরকার। এতে গ্রামাঞ্চলের মানুষের আবাসন সুবিধা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।