বিশেষ প্রতিবেদন :
শেকড়ের সন্ধানে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনের পৌষ মেলা। গ্রাম বাংলার স্মৃতি ফিরে পেতে পৌষ মেলায় উজ্জীবিত নগরবাসি। আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে পরিচয় করে দিতে গতকাল শুক্রবার সকাল আটটায় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে এ মেলার উদ্বোধন করেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী।
পৌষ মেলা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ও বাংলা একাডেমির সহযোগিতায় এ মেলা চলবে রোববার (২৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত। এসময় কামাল লোহানী বলেন, বাঙালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রতিরোধের হাতিয়ার হয়েছে। এ পৌষ মেলা তারই অংশ। চারপাশে যখন জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে গেছে, তখন এই পৌষ মেলার মাধ্যমে আমরা সবাইকে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বিদেশি অপসংস্কৃতি, মানুষ হত্যাকারী পশুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আমাদের বঙ্গ সংস্কৃতির উৎসবগুলোর চর্চা বাড়াতে হবে। আয়োজক পৌষ মেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, নগরে বেড়ে উঠা তরুণটি তার শেকড়ের কথা যখন ভুলে যায়, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন বাঙালি সংস্কৃতির উপাদানগুলো আমরা তাদের সামনে এমন মেলার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। তাদেরকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করাতে চাইছি। পৌষ মেলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও অনুষ্ঠান হবে সকাল আটটা থেকে সাড়ে নয়টা। মাঝে বিরতি দিয়ে বিকেল চারটা থেকে রাত নয়টা।
রোববার উৎসবের সমাপনী দিনে যাত্রাপালা পরিবেশন করবে ময়মনসিংহের দল রূপবান। মেলায় রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হরেক রকম পিঠাপুলির প্রদর্শন রয়েছে। দর্শনার্থীরা দেখার সঙ্গে এর স্বাদও নিতে পারবেন পয়সা ভাঙিয়ে। আয়োজক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় জানান, পৌষমেলা উপলক্ষে একাডেমির নজরুল মঞ্চে প্রতিদিন সকাল ৮টা-১০টা এবং বিকাল ৪টা-রাত ৯টা পর্যন্ত বাঙালি সংস্কৃতির নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া প্রাঙ্গণ জুড়ে ৫০-৬০টি স্টল রয়েছে। সেখানে রকমারি পিঠা ও দেশীয় কারুপণ্যের সমাহার রয়েছে।