আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বেলারুশ এবার পারমাণবিক শক্তির ক্লাবে যোগ দিয়েছে।’ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটম কর্তৃক নির্মিত প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সফলভাবে পরিচালনা করার কথা উল্লেখ করে এ কথা বলেন।
বেলারুশের জ্বালানি মন্ত্রণালয় নভেম্বরে স্টেশনের দ্বিতীয় পাওয়ার ইউনিটের বাণিজ্যিক অপারেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেছে। ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের মোট বিদ্যুৎ-উৎপাদন ক্ষমতার সাথে, প্ল্যান্টটিতে দেশের জ্বালানি চাহিদার ৪০ শতাংশ পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর স্পুটনিকের।
এটিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ঘোষণা করেছেন পুতিন। রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ প্রতিবেশী দেশে একটি সম্পূর্ণ নতুন শিল্পের জন্ম দিয়েছে। এই অর্থ বেলারুশ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।’
উত্তর-পশ্চিম বেলারুশের অস্ট্রোভেটস শহর থেকে খুব দূরে অবস্থিত। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রোসাটমের একটি সহযোগী সংস্থা নির্মাণ শুরু করে ২০১৩ সালে। এটিতে অত্যাধুনিক পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২৩ সালে, মিনস্কের বারবার অনুরোধের পরে বেলারুশেও পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপন করে মস্কো। বেলারুশের নেতৃত্ব আক্রমণাত্মক পশ্চিমা নীতি এবং ইউরোপ ওয়াশিংটনের মিত্রদের পরমাণু অস্ত্রকে হুমকি হিসেবে মনে করছে। রাশিয়া বেলারুশের সবচেয়ে কাছের মিত্র হওয়ায় তারা আক্রান্ত হলে পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে রাশিয়া।
কিয়েভ-মস্কোর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেনকে পারমানবিক অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন অভিযোগ করছে রাশিয়া। এরই প্রেক্ষিতে বেলারুশে পারমানবিক অস্ত্র স্থাপনের ধোষণা করে মস্কো।
২০২৩ এর জুলাইয়ে, রাশিয়া জানায়, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো তাদের বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তন করলে এবং ইউরোপ থেকে ওয়াশিংটনের পারমাণবিক অস্ত্রাগার সরিয়ে নিলে বা এর অবকাঠামো প্রত্যাহার করলে মস্কো বেলারুশ থেকে তাদের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করবে।’