আকাশবার্তা ডেস্ক :
দেশে ২০১৪ সালে থ্রি-জি গ্রাহকের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার ছিল যা ৩ বছরের ব্যবধানে বেড়ে প্রায় ৪ কোটিতে পৌঁছেছে। দ্রুত গতিতে থ্রি-জি গ্রাহকের সংখ্যা বাড়লেও গুণগত মান নিয়ে গ্রাহকদের ভেতর দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। থ্রি-জির সেবার মান না বাড়িয়ে ফোর-জি চালুর পরিকল্পনায় গ্রাহকদের মাঝে দেখা দিয়েছে সংশয়। ২০১৫ সালে ১ কোটি ৭০ লাখ। ২০১৬ সালে ২ কোটি ৯১ লাখ। চলতি বছরের থ্রি-জি গ্রাহকের সংখ্য বেড়ে প্রায় ৪ কোটিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
বিটিআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটররা থ্রি-জি চালুর কিছুদিন পর পর্যন্ত ইন্টারনেট প্যাকেজে গতি (সক্ষমতা) প্রকাশ করলেও অনেকদিন ধরেই তা আর করছে না। পরে তারা ইন্টারনেট প্যাকেজ বিক্রি শুরু করে। থ্রি-জি এবং টু-জি প্যাকেজ পৃথক করতে ‘কথিত জটিলতা’ হওয়ায় অপারেটররা এমন করেছে। পরবর্তীতে কমিশন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়, প্যাকেজে গতি উল্লেখ করলে অবশ্যই গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বর্তমানে একজন গ্রাহক ইন্টারনেট (ডাটা) কেনার সময় মূলত ভলিউম কিনে থাকেন।
এ ভলিউম হলো ডাটার পরিমাণ। তাতে মেয়াদ উল্লেখ থাকলেও গতি উল্লেখ থাকে না। গ্রাহক সপ্তাহ বা মাসের মেয়াদ যে ডাটা কিনে থাকেন তা হলো জিবি (গিগাবাইট), এটা হলো মোট ডাটা। এতে জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) তথা গতি উল্লেখ থাকে না। এসব ফাঁক-ফোকর গলে অপারেটররা ইন্টারনেট বিক্রি করছে গ্রাহকের কাছে। ফলে থ্রি-জি ব্যবহার করে গ্রাহক গতির ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও কিছুই করতে পারেন না বলে জানান এ কর্মকর্তা। থ্রি-জি সেবায় গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে রবি এরপর গ্রামীণফোন, টেলিটক, বাংলালিংক ও এয়ারটেল। তবে দ্রুত গতিতে থ্রি-জি গ্রাহকের সংখ্যা বাড়লেও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
শহরে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটে থ্রি-জি সেবা ভালো হলেও গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল। সেখানে ফোর-জি ইন্টারনেটের গতি কেমন হবে তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন ব্যবহারকারীরা। থ্রি-জির গতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দেশে ফোর-জির পরিকল্পনা চলছে। থ্রি-জি হোক কিংবা ফোর-জি হোক সবার আগে গ্রাহকদের সেবার মান ও অবকাঠামোর উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে মোবাইলফোন গ্রাহক ১৪ কোটি ৭ লাখ ১৩ হাজার এবং মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৭ কোটি ৩৮ লাখ ১৭ হাজার। এরমধ্যে থ্রি-জি ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি।
থ্রি-জি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আক্তারুজ্জামান মোল্লা জানান, দেশে এখনও থ্রি-জি সেবা ঠিকমতো চালু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে আবার ফোর-জি আসছে। গতির মান না বাড়িয়ে ফোর-জি শুধু যদি নামেই হয় তাহলে গ্রাহকরা থ্রি-জির মতই ভোগান্তির শিকার হবে।
রাইদা আইটির পরিচালক ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ রাজিব আহমেদ আমার সংবাদকে বলেন, অপারেটররা থ্রি-জি সেবা দিচ্ছে বলে দাবি করছে। কিন্তু যখনই আমরা ব্যবহার করতে যাচ্ছি সেটি পাচ্ছি না। ফলে এক ধরনের শুভঙ্করের ফাঁকির মতো অবস্থা বলে মনে করেন তিনি।
গ্রামাঞ্চলে থ্রি-জি ইন্টারনেটের সাপোর্ট পাচ্ছেন না এ বিষয়টি স্বীকার করে বিটিআরসির সচিব ও মুখপাত্র সারওয়ার আলম আমার সংবাদকে জানান, অপারেটরদের যে পরিমাণ ফ্রিকোয়েন্সি ক্রয় করার কথা তা কিনছে না। এরপরও এবার তরঙ্গ নির্দেশিকার নীতিমালা হচ্ছে। এতে প্রচুর তরঙ্গ থাকবে যা থ্রি-জি ও ফোর-জির গতি নিয়ে যে সমস্যাটি এখন রয়েছে তা বহুলাংশে সমাধান হবে।