জেএসসি/২০১৭ ফলাফলে সার্বিকভাবে সারাদেশে ফলাফল বিপর্যয় হলেও কুমিল্লা বোর্ডে একেবারে সর্বনিন্ম ফলাফল দেখা গেছে। এই বোর্ডের অধীন বিভিন্ন জেলার অনেক নামীদামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলে বিপর্যয় একেবারে অভাবনীয়। লক্ষ্মীপুরে অনেক বিদ্যালয়ের ফলাফলে ধস নেমেছে।
এসব বিদ্যালয়ে খারাপ রেজাল্ট সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি এবং শিক্ষকদের উদাসীনতাই বেশি দায়ী। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, শিক্ষকদের নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে অনভিজ্ঞতা, অকৃতকার্যদের পরীক্ষার সুযোগ দিয়ে ফরম ফিলাপ করা, রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনের স্কুল কমিটি গঠন, পারিবারিকভাবে পরীক্ষার্থীদের প্রতি উদাসীনতা, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার, পাড়ার অসৎ ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব এবং আড্ডাবাজিসহ ইত্যাদি কারণে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয় হতে পারে বলে আমার ধারণা।
অন্যদিকে দেখা গেছে, অর্থ লোভি কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজসে একাধিক বিষয়ে টেষ্ট পরীক্ষায় ফেল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদেরকে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফল বিপর্যয়ের বড় কারণ এটাই বলে অনেকের মত। নীতি বিবর্জিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ কর্মকর্তারা আসলে মানসম্মত শিক্ষায় বিশ্বাসী নয়। প্রাতিষ্ঠানিক সুনামেরও ধার ধারেন না। তাদের মতে শতভাগ পাশ আর জিপিএ-৫ প্রতিষ্ঠানের সুনাম হলেও আমাদের লাভ কী? সরকার তো প্রতিমাসে বেতন ঠিকই দিচ্ছে। এরমাঝে যা কামাই করে নেওয়া যায়, তাই লাভ।
তবে এলাকা ভিত্তিক কিছু নেতা, পাতি নেতার কারণেও অনেক বিদ্যালয়ে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব এলাকার নেতারা অকৃতকার্য অভিভাবকদের কাছে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে অন্যায় দেনদরবারে জড়িয়ে পড়েন। এতে ক্ষমতার প্রভাবে টিকতে না পেরে অনেক বিদ্যালয়ের প্রধানরা এসব অন্যায় আবদার রক্ষা করতে বাধ্য হন।
লক্ষ্মীপুরে কিছু কিছু বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির কথাই শেষ কথা। প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের মতামত এসব প্রতিষ্ঠানে মূল্যায়ন করা হয়না। যার ফলে মেধাহীন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। এতে পাশের হারে ধস নামছে। ক্ষুন্ন হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম, বাড়ছে ওইসব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রশাসনসহ অভিভাবকদের নেতিবাচক ধারণা। এর থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষভাবে নজর দেওয়া জরুরী ফলাফল বিপর্যয় হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাইন উদ্দিন পাঠান বলেন, চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিদ্যালয়গুলোতে ফাইনাল টেষ্ট পরীক্ষায় যারা পাশ করেছে শুধুমাত্র তাদেরকে ফরম ফিলাপ করালে এই বিপর্যয় হতো না। কিন্তু নানান চাপ ও রাজনৈতিক প্রভাবে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদেরও ফরম ফিলাপ করার কারণে ফল বিপর্যয়ের প্রথম কারণ। দ্বিতীয়ত সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার নিয়মের সাথে অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনভিজ্ঞতা, পারিবারিকভাবে নজরদারির অভাব ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। ভবিষ্যতে টেষ্টে কৃতকার্য শিক্ষার্থী ছাড়া কাউকে ফরম ফিলাপ করতে না দেওয়া, শিক্ষকদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং পারিবারিকভাবে নজরদারি বাড়ালে ফল বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন এই শিক্ষাবিদ।
লেখক : মো. আলী হোসেন, সম্পাদক-আকাশবার্তাবিডি ডটকম।