নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৭ জানুয়ারী শনিবার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কাদা ছোড়াছুড়ি এবং নির্বাচনী উত্তাপ। বিশেষ করে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ পদসহ কয়েকটি পদে নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা হিসাব নিকাশ। এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচিত দুই প্রার্থী মাওলানা মো. আব্দুল কুদ্দুছ ও অপর প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। কার অবস্থান কী পর্যায়ে এনিয়ে ভোটারদের মধ্যে সরব আলোচনা চলছে। এ পদে বিশেষ এক প্রার্থীর পক্ষে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে একটি মহল। ওই মহলটি একাধিক ফেসবুক ফেক আইডি থেকে অপর প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কিন্তু এতে হালে পানি পাবে বলে মনে করছেন না ভোটাররা। কারণ, যার পক্ষে অপর প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তিনি কতটা ধোয়া তুলসী পাতা তা’ ভোটাররা অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।
অপরদিকে সভাপতি পদে দুই প্রার্থীর প্রচার প্রচারণা এখন তুঙ্গে। সাবেক সভাপতি হাজী ওবায়দুল হক পাটোয়ারী প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অপর প্রার্থী জয়নাল আবেদীনও দিনরাত প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। চেষ্টা করছেন ভোটারদের মন জয় করতে। শেষপর্যন্ত নির্বাচনে জয়ের মালা কার গলায় শোভা পাবে তা এখনও বলা যাচ্ছেনা।
সাধারণ সম্পাদক পদে সকল অপপ্রচারকে পায়ে মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন মাওঃ মো. আব্দুল কুদ্দুছ। সব সময় সদালাপি ও হাসোজ্জল মাওঃ কুদ্দুছ বিগত দিনে নিজের কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন ভোটারদের কাছে। ব্যবসায়ীদের দুঃখের কারণ চন্দ্রগঞ্জ বাজারের অভ্যন্তরীণ সড়ক বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তার অনেক অবদান রয়েছে বলে ভোটাররা মনে করেন।
কোষাধ্যক্ষ পদে নতুন মুখের আলোচনা সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন দুইজন। তারা হলেন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ মহিন উদ্দিন মন্টু ও নবাগত প্রার্থী মো. সাহাবুদ্দিন। মন্টু বিগত ৭ বছর টানা একই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোটারদের ধারণা, এবার এই পদে পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।
সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন, ৩ জন। তারা হলেন, সাবেক জনপ্রিয় ছাত্রনেতা মো. বাবুল হোসেন, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা এনামুল হক রতন ও গাজী গোলাম হোসেন। এ পদে ভোটারদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন মো. বাবুল হোসেন। ক্লিন ইমেজ এবং পরিচিতির দিক থেকেও বাবুল হোসেন এগিয়ে আছেন বলে ভোটাররা জানান।
তবে ভালো এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ির নোংরামি পরিহার করে ভোটারদের মন জয় করার কাজে যার যার অবস্থান হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন ভোটাররা।
এ ব্যাপারে চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটি নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাষ্টার কাজী মোস্তফা কাজল বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি ও অপপ্রচার সম্পর্কে তিনি বলেন, ফেক আইডির মাধ্যমে যে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো এগুলো কোনো নির্বাচনী আচরণ হতে পারেনা। যে প্রার্থীর বিরুদ্ধেই হোক, আমরা কারো ব্যাপারে তা সমর্থন করিনা। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট।