আকাশবার্তা ডেস্ক :
সরকার দেশের সব নাগরিকদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ‘ইউনিভার্সাল পেনশন’ (সার্বজনীন পেনশন) ব্যবস্থার রূপরেখা দেবেন। এই রূপরেখা মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।
বৃহস্পতিবার ( ০১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে পেনশনভোগীদের সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে অর্থ পরিশোধের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের (ইএফটি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। প্রকল্পের আওতায় পেনশনের টাকা সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগির একাউন্টে জমা হলেই পেনশনভোগীকে তা জানিয়ে দেয়া হবে মোবাইল ফোনে এসএমএস’র মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে আর কাউকে তার পেনশনের হিসাব করা, পেনশন নেয়া-এগুলো চিন্তা-ভাবনা করতে হবে না। ইট ইজ ইন কিপিং উইথ দ্য ফিলোসফি অব দ্য স্টেট। কারণ, এখন ফিলোসফি হলো যত সিটিজেন আছে সবাইকে একটা সুযোগ করে দিতে হবে। এটা ইউনিভার্সাল পেনশন, যেটা আমরা মোর অল লেস কমিটেড, যেকোনো সময় হয়তো সেটা হবে।
তিনি বলেন, দেশের পেনশন ব্যবস্থার সর্বশেষ সংস্কার হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। আজ যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা যুগান্তকারী। এখন থেকে পেনশন ওঠাতে ছোটাছুটি করতে হবে না।
মুহিত বলেন, ‘এজন্য আগামী বাজেটে আই অ্যাম থিঙ্কিং অ্যান্ড অ্যানাউন্সিং। আমরা পেনশন সিস্টেমের যেটা করলাম, এটা নিয়ে দেশের প্রত্যেক নাগরিক বেনিফিটেড হবে। কারণ জাতীয় পেনশন পদ্ধতিতে সবাইকে ইনকর্পোরেট করা হবে। ১৬ কোটি মানুষ উড বি ইনকর্পোরেটেড ইন দ্য ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম।’
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো আগেও বলেছি আমরা চিন্তা করছি, পেনশন সিস্টেম ফর দ্য হোল ন্যাশন। আমি সেটার রূপরেখাটা অ্যানাউন্স করব। এটা ইন্ট্রোডিউস হবে না ইমিডিয়েটলি বাট উই স্যাল অ্যানাউন্স দ্য আউটলাইন অব দ্য ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম। এটা নিয়ে আমাদের এখানে কাজ হচ্ছে।’
এ সময় অর্থ সচিব মুসলিম চৌধুরী বলেন, ‘ইউনিভার্সাল পেনশন সিস্টেমের জন্য ইনস্টিটিউশন তৈরি করতে হবে। ফরমাল ও ইনফরমাল পেনশনের জন্য রেগুলেটরি অথরিটি লাগবে। স্যার (অর্থমন্ত্রী) এবার বাজেটে এটার রূপরেখা দেবেন। সেটার ব্যসিসে গভর্নমেন্ট ওয়ার্ক অন ইট।’
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫৭ জন পেনশনভোগীর জন্য এ পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তারা সবাই টাকা পৌঁছে যাওয়ার এসএমএস পেয়েছেন। পেনশনের জন্য এজি অফিস বা ব্যাংক- কোথাও যেতে হবে না তাদের। যখন ইচ্ছা টাকা তুলতে পারবেন।
দেশে পেনশনভোগীর সংখ্যা বর্তমানে ছয় লাখ ৫৭ হাজার ২১২ জন জানিয়ে অর্থসচিব বলেন, একটি পেনশন অফিস করার জন্য জনপ্রশাসনে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে সব কাজই অনলাইনে নিয়ে আসা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম অনুষ্ঠানে বলেন, পেনশনের পেপার ঠিক করতে দীর্ঘ সময় অফিসে বসে থাকতে হয়। পেনশনের পেপার নিয়ে দেরি করলে শাস্তির ব্যবস্থা করারও সুপারিশ করা হয়েছিল এক সময়। এখন সে বিড়ম্বনা দূর হবে।
অনুষ্ঠানে মহা হিসাব নিরীক্ষক মাসুদ আহমেদ, সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ, সাবেক ব্যাংকিং সচিব সৈয়দ আমির উল মুলকসহ অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন আমলা উপস্থিত ছিলেন।