বৃহস্পতিবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ

শপথের পরদিনই ভয় বিএনপি নেতাদের

আকাশবার্তা ডেস্ক :
গত শনিবার রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নেতারা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে শপথ নিয়েছিলেন যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা ভয় পাবেন না এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করবেন। কিন্তু তাদের এই শপথের বিপরীত চিত্র দেখা গেল একদিন পরই।
শনিবার থেকেই অনেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তারের ভয়ে আত্মগোপনে। অনেকে নেতার মোবাইল ফোনও বন্ধ রেখেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও নেই নেতাকর্মীদের আনাগোনা। এ অবস্থায় দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রিজভী রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একজনকেই নিয়ে। ওই সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর পাশে তার অনুসারী বলে পরিচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি। অথচ অন্যসময় টিভি ক্যামেরাই হোক আর প্রিন্ট মিডিয়ায়ই হোক মুখ দেখাতে দলীয় সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভিড় করতেন। এখন চলছে মুখ লুকানোর প্রতিযোগিতা। গতসপ্তাহে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে হাইকোর্টের সামনে পুলিশকে হামলা করে কয়েকজন আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানের পর থেকেই মূলত গ্রেপ্তার এড়াতে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই প্রকাশ্যে আসছেন না। নেতাদের এই ভীতির কারণে ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জেল হলে আদৌ এসব নেতা রাজপথে নামবেন কিনা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কর্মীদের মনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক কর্মী আমার সংবাদকে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের এই গা বাঁচিয়ে চলার কারণেই আওয়ামী লীগ সরকার আরও বেশি বেশি গ্রেপ্তার চালাচ্ছে। আর কেন্দ্রীয় নেতারা যদি রাজপথে নামতে ভয় না করত তাহলে আন্দোলনও চাঙা হত এবং গ্রেপ্তারের প্রবণতাও কমে যেত। তিনি বলেন, এই পিছু হটানীতির জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীরাও রাজপথে নামতে চায় না। ফলে আন্দোলন ব্যর্থ হয়। যেমনটি হয়েছিল ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ডাকা টানা তিনমাসের অবরোধ হরতাল। এখনও সেই ব্যর্থতার রেশ চলছে।
অপর একজন বিএনপিকর্মী বলেন, শনিবার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার কিছু হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের এক হয়ে সাহসের সঙ্গে মাঠে নামার শপথ দেখে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উৎসাহ পেয়েছিল। তারা বুঝতে পারেনি একদিন পরই কেন্দ্রীয় নেতাদের সাহসিকতার এই নমুনা দেখতে পাবে। তিনি বলেন, আগেই যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে ৮ ফেব্রুয়ারি নেত্রী জেলে গেলে কী করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আর সহায়ক সরকারের আন্দোলনের দাবি আদায়ের আন্দোলনই বা হবে কী করে।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাহস কমেনি এবং গ্রেপ্তারের কোনো ভয় নেই বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় নেতা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তো দূরে থাক একজন সাধারণ কর্মীও গ্রেপ্তারের ভয়ে আত্মগোপন করেনি। বরং আগের তুলনায় বিএনপি আরও সুসংহত হয়েছে এবং নেতাকর্মীরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি সংক্রান্ত মিথ্যা মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারির রায়কে কেন্দ্র করে যেকোনো পরিস্থিতি গণতান্ত্রিকভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০